, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে বান্দরবানে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন, আনসার-ভিডিপি জেলা কমান্ড্যান্ট শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বান্দরবান সেনা জোনের আর্থিক অনুদান বিতরণ বান্দরবানে সাকসেস একাডেমিক অ্যান্ড অ্যাডমিশন কেয়ারের অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ক্যান্সার আক্রান্ত আসমার পাশে মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, চিকিৎসায় নগদ অর্থ সহায়তা সূর্যমুখী শিশু কিশোর ফাউন্ডেশন এর ২৯ তম প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা উপকরণ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত। বান্দরবানে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস পালিত জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ৭ মাসের শিশু আহাদ, বাঁচাতে প্রয়োজন মানবিক সহযোগিতা। বান্দরবানের বালাঘাটার শিশু আব্দুল্লাহ আল আহাদ চট্টগ্রামের ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে; চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার  লামায় নদীর ঘাটে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালালো পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ বান্দরবানে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত, অংশ নিলেন মাধবী মার্মা এমপি

লামায় কবরস্থান তৈরির নামে বিধবা নারীর জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : ০৭:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ৭৬ পড়া হয়েছে

 

আমিনুল ইসলাম খন্দকার,লামা প্রতিনিধি।

​বান্দরবানের লামা উপজেলায় মৃত স্বামীর রেখে যাওয়া জমি কবরস্থান তৈরির নামে জবর-দখলের চেষ্টা ও বাগানের গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সাপমারাঝিরি স্টেশন জামে মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী বিধবা জাহানারা বেগম (৫৮)। প্রতিকার চেয়ে তিনি লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ৩০৫ নং গজালিয়া মৌজার আর/৩৫ নং হোল্ডিং-এর ৩ একর জমি জাহানারা বেগমের মৃত স্বামী ওয়াহেদ আলীর নামে রেকর্ডভুক্ত। উত্তরাধিকার সূত্রে ওই জমির মালিক হয়ে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি ওই জমি থেকে ৮ শতক জমি স্থানীয় সাপমারাঝিরি স্টেশন জামে মসজিদের নামে দান করেন এবং বাকি অংশে সেগুন ও কলা বাগান সৃজন করেন।

​ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ, মসজিদ কমিটির লোকজন কবরস্থান তৈরির জন্য অতিরিক্ত ২০ শতক জমি দাবি করে আসছিল। জমি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত ২৯ মে শুক্রবার রাত ১টার দিকে মোহাম্মদ নবী, রাশেদ কামাল, ইব্রাহিম খলিল জুয়েল, মো. নজরুল ইসলাম ও আব্দুল গণিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন ব্যক্তি ড্রেজার বা ডোজার গাড়ি নিয়ে জোরপূর্বক তার জমিতে প্রবেশ করে। এ সময় তারা বাগানের সেগুন গাছ ও কলার চারা উপড়ে ফেলে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। বাধা দিলে জাহানারা বেগমকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

​বিধবা জাহানারা বেগম বলেন, “মসজিদের জন্য ৮ শতক জমি দান করেছি। কিন্তু কবরস্থানের নাম করে তারা আমার স্বামীর অবশিষ্ট জমিটুকু জবর-দখল করতে চাইছে। প্রতিবাদ করায় তারা আমাকে মেরে লাশ মাটিতে পুঁতে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। এমনকি আইনি ব্যবস্থা নিলে রাস্তাঘাটে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের মারধরের ভয় দেখাচ্ছে। আমি এখন চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”

​জাহানারা বেগমের বড় ছেলে আব্দুর রশিদ জানান, এলাকার মানুষের অনুরোধে তারা মসজিদের জন্য ৮ শতক জমি দান করলেও কবরস্থানের জন্য আর জমি দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এরপরও স্থানীয় প্রভাবশালীরা জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।

​অভিযোগের বিষয়ে সাপমারাঝিরি স্টেশন জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, “এটি একটি সামাজিক বিষয়। সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে বসে আমরা আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান করব। তবে যদি কোনো আইনি জটিলতা তৈরি হয়, তবে আমরা আইন মেনেই তার মোকাবিলা করব।”

​এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন জানান, অভিযোগটি তিনি পেয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই-বাছাই করে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জনপ্রিয়

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে বান্দরবানে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন, আনসার-ভিডিপি জেলা কমান্ড্যান্ট

error: Content is protected !!

লামায় কবরস্থান তৈরির নামে বিধবা নারীর জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৭:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

 

আমিনুল ইসলাম খন্দকার,লামা প্রতিনিধি।

​বান্দরবানের লামা উপজেলায় মৃত স্বামীর রেখে যাওয়া জমি কবরস্থান তৈরির নামে জবর-দখলের চেষ্টা ও বাগানের গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সাপমারাঝিরি স্টেশন জামে মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী বিধবা জাহানারা বেগম (৫৮)। প্রতিকার চেয়ে তিনি লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ৩০৫ নং গজালিয়া মৌজার আর/৩৫ নং হোল্ডিং-এর ৩ একর জমি জাহানারা বেগমের মৃত স্বামী ওয়াহেদ আলীর নামে রেকর্ডভুক্ত। উত্তরাধিকার সূত্রে ওই জমির মালিক হয়ে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি ওই জমি থেকে ৮ শতক জমি স্থানীয় সাপমারাঝিরি স্টেশন জামে মসজিদের নামে দান করেন এবং বাকি অংশে সেগুন ও কলা বাগান সৃজন করেন।

​ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ, মসজিদ কমিটির লোকজন কবরস্থান তৈরির জন্য অতিরিক্ত ২০ শতক জমি দাবি করে আসছিল। জমি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত ২৯ মে শুক্রবার রাত ১টার দিকে মোহাম্মদ নবী, রাশেদ কামাল, ইব্রাহিম খলিল জুয়েল, মো. নজরুল ইসলাম ও আব্দুল গণিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন ব্যক্তি ড্রেজার বা ডোজার গাড়ি নিয়ে জোরপূর্বক তার জমিতে প্রবেশ করে। এ সময় তারা বাগানের সেগুন গাছ ও কলার চারা উপড়ে ফেলে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। বাধা দিলে জাহানারা বেগমকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

​বিধবা জাহানারা বেগম বলেন, “মসজিদের জন্য ৮ শতক জমি দান করেছি। কিন্তু কবরস্থানের নাম করে তারা আমার স্বামীর অবশিষ্ট জমিটুকু জবর-দখল করতে চাইছে। প্রতিবাদ করায় তারা আমাকে মেরে লাশ মাটিতে পুঁতে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। এমনকি আইনি ব্যবস্থা নিলে রাস্তাঘাটে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের মারধরের ভয় দেখাচ্ছে। আমি এখন চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”

​জাহানারা বেগমের বড় ছেলে আব্দুর রশিদ জানান, এলাকার মানুষের অনুরোধে তারা মসজিদের জন্য ৮ শতক জমি দান করলেও কবরস্থানের জন্য আর জমি দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এরপরও স্থানীয় প্রভাবশালীরা জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।

​অভিযোগের বিষয়ে সাপমারাঝিরি স্টেশন জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, “এটি একটি সামাজিক বিষয়। সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে বসে আমরা আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান করব। তবে যদি কোনো আইনি জটিলতা তৈরি হয়, তবে আমরা আইন মেনেই তার মোকাবিলা করব।”

​এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন জানান, অভিযোগটি তিনি পেয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই-বাছাই করে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।