বিজয় ত্রিপুরা-প্রতিনিধি বান্দরবানঃ-
বান্দরবানের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর খাবার পানির কষ্ট দূর করতে নেওয়া ৪৫ কোটি টাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি শোধন ও সরবরাহ প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম সরেজমিনে অভিযান চালিয়ে এই দুর্নীতির প্রমাণ নথিভুক্ত করেছে।বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন এই সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্পের বাজেট ছিল প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম ও বান্দরবান অঞ্চলের সমন্বয়ে গঠিত দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম সম্প্রতি প্রকল্প এলাকায় আকস্মিক অভিযান চালায়।
অভিযান পরিচালনাকালে দুদক টিম প্রকল্পটির ভৌত অবকাঠামো, পাইপলাইন স্থাপন, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখে। সরেজমিনে তদন্তে দেখা যায়:
* নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার: চুক্তির শর্ত ও সিডিউল অনুযায়ী গুণগত মানসম্পন্ন মালামাল ব্যবহার না করে অত্যন্ত নিম্নমানের নিম্নমানের পাইপ ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে।
* অর্ধসমাপ্ত কাজ ও ভুয়া বিল উত্তোলন: প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে সম্পূর্ণ বা অধিকাংশ শেষ দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক এলাকায় পাইপলাইন ও সংযোগের কাজ অসম্পূর্ণ পড়ে রয়েছে। এর মধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।
* পানির সংকট অব্যাহত: কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরও এলাকার সাধারণ মানুষ সুপেয় পানির সুবিধাপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
দুদকের সমন্বিত কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সরেজমিন তদন্তে সংগৃহীত নমুনার রিপোর্ট এবং নথিপত্র পর্যালোচনা করে কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। দুর্নীতির সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকৌশলী এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হচ্ছে।















