, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে বান্দরবানে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন, আনসার-ভিডিপি জেলা কমান্ড্যান্ট শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বান্দরবান সেনা জোনের আর্থিক অনুদান বিতরণ বান্দরবানে সাকসেস একাডেমিক অ্যান্ড অ্যাডমিশন কেয়ারের অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ক্যান্সার আক্রান্ত আসমার পাশে মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, চিকিৎসায় নগদ অর্থ সহায়তা সূর্যমুখী শিশু কিশোর ফাউন্ডেশন এর ২৯ তম প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা উপকরণ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত। বান্দরবানে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস পালিত জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ৭ মাসের শিশু আহাদ, বাঁচাতে প্রয়োজন মানবিক সহযোগিতা। বান্দরবানের বালাঘাটার শিশু আব্দুল্লাহ আল আহাদ চট্টগ্রামের ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে; চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার  লামায় নদীর ঘাটে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালালো পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ বান্দরবানে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত, অংশ নিলেন মাধবী মার্মা এমপি

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে নিরাপদ স্যানিটেশনের অভাবে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

  • প্রকাশের সময় : ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৫ পড়া হয়েছে

বিজয় ত্রিপুরা-বান্দরবান প্রতিনিধিঃ

পানিবাহিত রোগসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দুর্গম এলাকার মানুষ
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থার অভাবে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদগুলোর অনেক পরিবার এখনো নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে পাহাড়ি ঝরনা, ছড়া ও প্রাকৃতিক পানির উৎসের ওপর নির্ভরশীল এসব মানুষের মধ্যে পানিবাহিত রোগসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষের একটি বড় অংশের ঘরবাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্বে স্যানিটারি ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা নেই। কোথাও অস্থায়ী শৌচাগার ব্যবহার করা হচ্ছে, আবার কোথাও খোলা জায়গায় মলত্যাগের প্রবণতাও রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব বর্জ্য পানির সঙ্গে মিশে ঝরনা, ছড়া ও অন্যান্য পানির উৎস দূষিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম এলাকায় স্যানিটেশন অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও সচেতনতার অভাব বড় বাধা। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় স্যানিটারি উপকরণ ও নিরাপদ শৌচাগার নির্মাণের সামর্থ্যও রাখে না।
এতে শিশু, নারী ও বয়স্করা বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন বলে স্থানীয়রা জানান। অপরিষ্কার পানি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে ডায়রিয়া, আমাশয়, পেটের বিভিন্ন সমস্যা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিরাপদ স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিরাপদ পানির উৎস, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নির্মাণ এবং স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে নিরাপদ স্যানিটেশন নিশ্চিত করা শুধু স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয় নয়; এটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। তাই দুর্গম এলাকাগুলোতে স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন।স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্গম এলাকাগুলোতে জরিপের মাধ্যমে প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ করে দ্রুত স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নির্মাণ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের প্রত্যাশা, শুধু শহর বা সহজে যাতায়াতযোগ্য এলাকায় নয়, বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি জনপদেও নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

জনপ্রিয়

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে বান্দরবানে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন, আনসার-ভিডিপি জেলা কমান্ড্যান্ট

error: Content is protected !!

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে নিরাপদ স্যানিটেশনের অভাবে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিজয় ত্রিপুরা-বান্দরবান প্রতিনিধিঃ

পানিবাহিত রোগসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দুর্গম এলাকার মানুষ
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থার অভাবে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদগুলোর অনেক পরিবার এখনো নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে পাহাড়ি ঝরনা, ছড়া ও প্রাকৃতিক পানির উৎসের ওপর নির্ভরশীল এসব মানুষের মধ্যে পানিবাহিত রোগসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষের একটি বড় অংশের ঘরবাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্বে স্যানিটারি ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা নেই। কোথাও অস্থায়ী শৌচাগার ব্যবহার করা হচ্ছে, আবার কোথাও খোলা জায়গায় মলত্যাগের প্রবণতাও রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব বর্জ্য পানির সঙ্গে মিশে ঝরনা, ছড়া ও অন্যান্য পানির উৎস দূষিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম এলাকায় স্যানিটেশন অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও সচেতনতার অভাব বড় বাধা। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় স্যানিটারি উপকরণ ও নিরাপদ শৌচাগার নির্মাণের সামর্থ্যও রাখে না।
এতে শিশু, নারী ও বয়স্করা বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন বলে স্থানীয়রা জানান। অপরিষ্কার পানি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে ডায়রিয়া, আমাশয়, পেটের বিভিন্ন সমস্যা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিরাপদ স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিরাপদ পানির উৎস, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নির্মাণ এবং স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে নিরাপদ স্যানিটেশন নিশ্চিত করা শুধু স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয় নয়; এটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। তাই দুর্গম এলাকাগুলোতে স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন।স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্গম এলাকাগুলোতে জরিপের মাধ্যমে প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ করে দ্রুত স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নির্মাণ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের প্রত্যাশা, শুধু শহর বা সহজে যাতায়াতযোগ্য এলাকায় নয়, বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি জনপদেও নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।