বান্দরবান প্রতিনিধি:
কমিটি গঠনের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি ফেরেনি বান্দরবান জেলা ছাত্রদলে। গত ২ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ঘোষিত ১০ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি এখনো নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে কার্যকর সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। কমিটি নিয়ে শুরু থেকেই বিরোধ থাকায় জেলা ছাত্রদলের কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কমিটির একাধিক নেতা।
জেলা ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কমিটি ঘোষণার পরপরই এর বিরোধিতা করে বান্দরবানে পৃথকভাবে মিছিল করে দুই পক্ষ। এরপর থেকে কমিটির সদস্যদের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়তে থাকে। পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো আহ্বায়ক কমিটির ১০ সদস্যকে নিয়ে কোনো বর্ধিত সভা বা কার্যকর সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। জেলার সাতটি উপজেলাতেও ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেকটা নিষ্ক্রিয় বলে দাবি করেছেন নেতারা।
জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাউসার ইসলাম বলেন, বর্তমান কমিটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার অন্যতম কারণ আহ্বায়ককে ঘিরে নেতাকর্মীদের অসন্তোষ। তার দাবি, আহ্বায়ক দীর্ঘদিন ছাত্রদলের সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলেন না। তিনি আগে স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তার বয়স ও পারিবারিক অবস্থান নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। এমন একজনকে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক করা হয়েছে কীভাবে—এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, ছাত্রদলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে বর্তমান কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা নিয়মিত ছাত্রদের হাতে ছাত্রদলের নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার কথা বললেও বান্দরবানের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সেই নীতির প্রতিফলন ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, বিবাহিত ও দুই সন্তানের পিতা এবং ৩৯ বছর বয়সী একজনকে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক করায় তৃণমূলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
যুগ্ম আহ্বায়ক মিঠুন কান্তি দাস বলেন, “বর্তমানে জেলা ছাত্রদলের কোনো অস্তিত্বই নেই বললেই চলে। কমিটি হওয়ার পর থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই। পাঁচ মাস পার হয়ে গেলেও এখনো একটি বর্ধিত সভা করতে পারেনি জেলা ছাত্রদল।
যুগ্ম আহ্বায়ক সেফায়েত হোসেন তারেক বলেন, সদস্য সচিব শহিদুল ইসলামকে একাধিকবার সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি সাড়া দেননি। আহ্বায়ক গ্রুপ ও সদস্য সচিব গ্রুপের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম বলেন, “জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ককে নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এ কারণে তৃণমূল পর্যায়েও সাংগঠনিক অবস্থান অগোছালো। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি।
জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অংসাহ্লা মার্মার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফরহাদ হোসেন জিকুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম না থাকায় জেলা ছাত্রদলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। দ্রুত অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসন করে কার্যকর সাংগঠনিক কর্মসূচি চালু না হলে জেলার সাত উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিটে ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।














