রনি সিকদার, বান্দরবান প্রতিনিধি।
বান্দরবানের দুর্গম রোয়াংছড়ি উপজেলার লংলেই পাড়ার দীর্ঘদিনের নিরাপদ সুপেয় পানির সংকট নিরসনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে স্থাপিত একটি সৌরচালিত সুপেয় পানির পাম্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পাম্পটির উদ্বোধন করেন বান্দরবান সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ হুমায়ুন রশীদ, পিএসসি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, লংলেই পাড়ার বাসিন্দা, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোন কমান্ডার বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নানা জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের অংশ হিসেবে নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এই সৌরচালিত পানির পাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে লংলেই পাড়ার মানুষ বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছিলেন। সৌরশক্তিচালিত এই আধুনিক পানির পাম্প চালু হওয়ার ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা এখন সহজেই নিরাপদ সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি কমবে, জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও সহজ ও স্বস্তিদায়ক হবে।
লংলেই পাড়ার কারবারি বলেন, এতদিন নিরাপদ পানির জন্য তাদের অনেক দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হতো। নতুন এই সৌরচালিত পানির পাম্প চালু হওয়ায় সেই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ মানবিক উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এই প্রকল্প শুধু নিরাপদ পানির চাহিদাই পূরণ করবে না, বরং এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধন শেষে অতিথিরা সৌরচালিত পানির পাম্প প্রকল্পটি পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় এলাকাবাসী পার্বত্য অঞ্চলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।











