বান্দরবান প্রতিনিধি।
বান্দরবানের মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে ‘সাথী’ নামে নতুন একটি লোকাল ডেলিভারি ও অন-ডিমান্ড সার্ভিস প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।
আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বান্দরবান শহর থেকে সেবাটির কার্যক্রম শুরু হবে।
প্রাথমিকভাবে বান্দরবান সদরকেন্দ্রিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলা ও শহরে ‘সাথী’র সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের।
‘সাথী’র মূল লক্ষ্য হলো—মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ছোট-বড় প্রয়োজনীয় কাজগুলোকে সহজ করে দেওয়া। ব্যস্ততার কারণে কিংবা শারীরিক অসুবিধার কারণে কেউ কোনো কাজে বাইরে যেতে না পারলে ‘সাথী’র রাইডারের মাধ্যমে সেই কাজটি করিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
যেসব সেবা পাওয়া যাবে
‘সাথী’র মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পার্সেল ও গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট পৌঁছে দেওয়া, বাজার করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া, ফার্মেসি থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ এনে দেওয়া এবং অনলাইন শপের পণ্য কাস্টমারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মতো সেবা পাওয়া যাবে।
এছাড়াও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বাইরে গিয়ে করতে হয়—এমন ছোটখাটো বিভিন্ন কাজও ‘সাথী’র রাইডারের মাধ্যমে করিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
অর্থাৎ, কারও হাতে সময় নেই, কিন্তু জরুরি কোনো কাজ করানো প্রয়োজন—এমন পরিস্থিতিতে ‘সাথী’ হতে পারে তার নির্ভরযোগ্য সহযোগী।
গৃহিণীদের জন্য স্বস্তির সেবা
ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় গৃহিণীদের রান্না কিংবা সংসারের কাজের মাঝখানে বাজারে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। রান্নার কোনো উপকরণ শেষ হয়ে গেলে কিংবা হঠাৎ কোনো প্রয়োজনীয় জিনিসের দরকার হলে বাইরে বের হওয়া সবসময় সম্ভব হয় না।
এক্ষেত্রে ‘সাথী’র মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পণ্য বা বাজারের জিনিস এনে সরাসরি বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার সুবিধা পাওয়া যাবে। ফলে সংসারের ব্যস্ততার মধ্যেও প্রয়োজনীয় কাজ সহজেই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
চাকরিজীবীদের সময় বাঁচাবে ‘সাথী’
অফিসে কর্মব্যস্ততার মধ্যে অনেক সময় জরুরি কোনো কাগজপত্র, পার্সেল কিংবা ব্যক্তিগত কোনো কাজ বাইরে গিয়ে সম্পন্ন করা প্রয়োজন হয়। কিন্তু অফিসের ব্যস্ততার কারণে সেটি করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।
এমন পরিস্থিতিতে ‘সাথী’র রাইডারকে দায়িত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় কাজটি সম্পন্ন করিয়ে নেওয়া যাবে। এতে চাকরিজীবীদের সময় ও পরিশ্রম দুটোই সাশ্রয় হবে।
বয়স্কদের জন্য বিশেষ সুবিধা
বয়স্ক মানুষের জন্য দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বের হওয়া অনেক সময় কষ্টকর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি কিংবা শারীরিক অসুবিধার সময় বাইরে গিয়ে বাজার করা বা প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে যায়।
‘সাথী’র মাধ্যমে ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় পণ্য, বাজার কিংবা অন্যান্য ছোটখাটো কাজ করিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। ফলে বয়স্ক মানুষদের দৈনন্দিন জীবন আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
অনলাইন সেলারদের জন্যও থাকছে সুবিধা
বর্তমানে বান্দরবানে অনেক উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রি করছেন। তাদের জন্যও ‘সাথী’ কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায়।
অনলাইন সেলারদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে তা কাস্টমারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিতে পারবে ‘সাথী’র রাইডাররা। প্রাথমিকভাবে বান্দরবান সদর এলাকার মধ্যে এ ধরনের ডেলিভারি সেবা চালু করা হবে।
এর ফলে অনলাইন ব্যবসায়ীদের নিজেদের ডেলিভারি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাড়তি ঝামেলায় পড়তে হবে না এবং তারা ব্যবসার মূল কার্যক্রমে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন।
স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ
‘সাথী’ শুধু একটি ডেলিভারি সেবা হিসেবে নয়, বান্দরবানের স্থানীয় তরুণদের জন্য সম্মানজনক আয়ের সুযোগ তৈরির একটি উদ্যোগ হিসেবেও কাজ করতে চায়।
উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে স্থানীয় তরুণদের রাইডার হিসেবে যুক্ত করে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন মানুষের প্রয়োজনীয় সেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে, অন্যদিকে স্থানীয় তরুণদের জন্য তৈরি হবে আয়ের নতুন একটি ক্ষেত্র।
যেভাবে অর্ডার করা যাবে
সাধারণ মানুষের জন্য ‘সাথী’ ব্যবহার করার প্রক্রিয়াও রাখা হয়েছে সহজ। তিনটি মাধ্যমে সেবা নেওয়া যাবে।
প্রথমত, ‘সাথী’র ওয়েবসাইটে গিয়ে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে অনলাইনে অর্ডার কনফার্ম করা যাবে।
দ্বিতীয়ত, ‘সাথী’র ফেসবুক পেজে সরাসরি মেসেজ পাঠিয়েও প্রয়োজনীয় সেবার জন্য অর্ডার করা যাবে।
তৃতীয়ত, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় কাজের অর্ডার দেওয়া যাবে।
উদ্যোক্তারা বলছেন, প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ করাই ‘সাথী’র প্রধান উদ্দেশ্য। একজন মানুষ ঘরে বসেই তার প্রয়োজনীয় কাজের দায়িত্ব ‘সাথী’র রাইডারের কাছে দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারবেন।
বান্দরবান থেকেই শুরু, লক্ষ্য সারা বাংলাদেশ
‘সাথী’র উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা শুধু বান্দরবান শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয়ভাবে সেবাটির কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার পর ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য জেলা ও শহরেও এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্যোক্তারা আশা করছেন, স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সেবার মান উন্নত করা গেলে ভবিষ্যতে ‘সাথী’ দেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় একটি সেবা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জায়গা করে নিতে পারবে।
আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বান্দরবান থেকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনের পাশে থাকার লক্ষ্যেই এগিয়ে যেতে চায় ‘সাথী’—একটি স্থানীয় উদ্যোগ, যার স্বপ্ন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়বে সারা বাংলাদেশে।

















