, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে বান্দরবানে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন, আনসার-ভিডিপি জেলা কমান্ড্যান্ট শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বান্দরবান সেনা জোনের আর্থিক অনুদান বিতরণ বান্দরবানে সাকসেস একাডেমিক অ্যান্ড অ্যাডমিশন কেয়ারের অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ক্যান্সার আক্রান্ত আসমার পাশে মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, চিকিৎসায় নগদ অর্থ সহায়তা সূর্যমুখী শিশু কিশোর ফাউন্ডেশন এর ২৯ তম প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা উপকরণ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত। বান্দরবানে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস পালিত জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ৭ মাসের শিশু আহাদ, বাঁচাতে প্রয়োজন মানবিক সহযোগিতা। বান্দরবানের বালাঘাটার শিশু আব্দুল্লাহ আল আহাদ চট্টগ্রামের ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে; চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার  লামায় নদীর ঘাটে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালালো পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ বান্দরবানে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত, অংশ নিলেন মাধবী মার্মা এমপি

মোল্লার বাজারে জুয়া ও মাদকের ভয়াল বিস্তার, আতঙ্কে এলাকাবাসী

  • প্রকাশের সময় : ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
  • ৬১ পড়া হয়েছে

দশমিনা প্রতিনিধি।

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের মোল্লার হাট বাজার ও আশপাশের এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজার, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশপাশ,মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাজারের পশ্চিম পাশসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত জুয়া ও  মাদকসেবীদের আড্ডা বসছে। এতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের একটি অংশ জুয়া ও মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ায় উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

স্থানীয়দের দাবি, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কলেজ পর্যায়ের অনেক কিশোর-তরুণ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তবে ‘৮০ শতাংশ’ তরুণ মাদকের আওতায়। এলাকাবাসীর ভাষ্য, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে এর ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব পড়তে পারে।

অভিযোগ রয়েছে, মোল্লার হাট বাজারের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যেই মাদকসেবীদের আনাগোনা দেখা যায়। এমনকি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতর ও আশপাশেও মাদকসেবীদের আড্ডার অভিযোগ উঠেছে। বাজারের পশ্চিম পাশসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে তরুণদের জটলা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদকের সহজলভ্যতা ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। পাশাপাশি সন্তানদের প্রতি পরিবারের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতার ঘাটতি এবং সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারাকেও দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো.সোহেল মৃধা বলেন, মাদকের কারণে এলাকায় চুরি, মারামারি, কিশোরদের বেপরোয়া চলাফেরা এবং সামাজিক অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক অভিভাবক এখন উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

এলাকাবাসীর অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর দিক হলো—প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকর অভিযান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, প্রশাসনের চোখের সামনে যদি মাদকসেবীদের আড্ডা চলে, তাহলে মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা জরুরি। তবে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা প্রয়োজন।

সচেতন মহল মনে করছে, শুধু প্রশাসনিক অভিযান চালালেই মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুমহল ও আচরণগত পরিবর্তনের দিকে অভিভাবকদের নজর দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর দাবি, মোল্লার হাট বাজার ও আশপাশের এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান, মাদক বিক্রেতাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থী-কিশোরদের জন্য নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হোক।

তাদের ভাষ্য, আজকের কিশোর-তরুণরাই আগামী দিনের সমাজের নেতৃত্ব দেবে। তাই মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে তাদের রক্ষা করতে এখনই পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

জনপ্রিয়

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে বান্দরবানে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন, আনসার-ভিডিপি জেলা কমান্ড্যান্ট

error: Content is protected !!

মোল্লার বাজারে জুয়া ও মাদকের ভয়াল বিস্তার, আতঙ্কে এলাকাবাসী

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

দশমিনা প্রতিনিধি।

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের মোল্লার হাট বাজার ও আশপাশের এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজার, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশপাশ,মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাজারের পশ্চিম পাশসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত জুয়া ও  মাদকসেবীদের আড্ডা বসছে। এতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের একটি অংশ জুয়া ও মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ায় উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

স্থানীয়দের দাবি, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কলেজ পর্যায়ের অনেক কিশোর-তরুণ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তবে ‘৮০ শতাংশ’ তরুণ মাদকের আওতায়। এলাকাবাসীর ভাষ্য, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে এর ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব পড়তে পারে।

অভিযোগ রয়েছে, মোল্লার হাট বাজারের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যেই মাদকসেবীদের আনাগোনা দেখা যায়। এমনকি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতর ও আশপাশেও মাদকসেবীদের আড্ডার অভিযোগ উঠেছে। বাজারের পশ্চিম পাশসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে তরুণদের জটলা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদকের সহজলভ্যতা ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। পাশাপাশি সন্তানদের প্রতি পরিবারের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতার ঘাটতি এবং সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারাকেও দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো.সোহেল মৃধা বলেন, মাদকের কারণে এলাকায় চুরি, মারামারি, কিশোরদের বেপরোয়া চলাফেরা এবং সামাজিক অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক অভিভাবক এখন উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

এলাকাবাসীর অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর দিক হলো—প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকর অভিযান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, প্রশাসনের চোখের সামনে যদি মাদকসেবীদের আড্ডা চলে, তাহলে মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা জরুরি। তবে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা প্রয়োজন।

সচেতন মহল মনে করছে, শুধু প্রশাসনিক অভিযান চালালেই মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুমহল ও আচরণগত পরিবর্তনের দিকে অভিভাবকদের নজর দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর দাবি, মোল্লার হাট বাজার ও আশপাশের এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান, মাদক বিক্রেতাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থী-কিশোরদের জন্য নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হোক।

তাদের ভাষ্য, আজকের কিশোর-তরুণরাই আগামী দিনের সমাজের নেতৃত্ব দেবে। তাই মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে তাদের রক্ষা করতে এখনই পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।