, শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মাটির নিচে লুকানো ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণ মাম্যাচিংকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করায় উচ্ছ্বসিত বিএনপি, বান্দরবানে আনন্দ মিছিল অতি শীঘ্রই উপজেলা-পৌরসভা-ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রার্থী ঘোষণা করবে এনসিপি: সারজিস আলম বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তে ৪৯ হাজার ৯৮২ পিস ইয়াবা উদ্ধার বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন, চেয়ারম্যান মাম্যাচিং বান্দরবানে ১ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করছে ‘সাথী’ পার্সেল ডেলিভারি থেকে বাজার-ওষুধ পৌঁছে দেওয়া—এক প্ল্যাটফর্মেই মিলবে নানা অন-ডিমান্ড সেবা ‘৬ রবিউল আউয়াল সকল ঈদের সেরা ঈদ’—বটতলীতে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বেপরোয়া চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে বান্দরবানে মানববন্ধন মোল্লার বাজারে জুয়া ও মাদকের ভয়াল বিস্তার, আতঙ্কে এলাকাবাসী

মোল্লার বাজারে জুয়া ও মাদকের ভয়াল বিস্তার, আতঙ্কে এলাকাবাসী

  • প্রকাশের সময় : ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
  • ২৭ পড়া হয়েছে

দশমিনা প্রতিনিধি।

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের মোল্লার হাট বাজার ও আশপাশের এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজার, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশপাশ,মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাজারের পশ্চিম পাশসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত জুয়া ও  মাদকসেবীদের আড্ডা বসছে। এতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের একটি অংশ জুয়া ও মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ায় উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

স্থানীয়দের দাবি, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কলেজ পর্যায়ের অনেক কিশোর-তরুণ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তবে ‘৮০ শতাংশ’ তরুণ মাদকের আওতায়। এলাকাবাসীর ভাষ্য, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে এর ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব পড়তে পারে।

অভিযোগ রয়েছে, মোল্লার হাট বাজারের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যেই মাদকসেবীদের আনাগোনা দেখা যায়। এমনকি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতর ও আশপাশেও মাদকসেবীদের আড্ডার অভিযোগ উঠেছে। বাজারের পশ্চিম পাশসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে তরুণদের জটলা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদকের সহজলভ্যতা ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। পাশাপাশি সন্তানদের প্রতি পরিবারের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতার ঘাটতি এবং সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারাকেও দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো.সোহেল মৃধা বলেন, মাদকের কারণে এলাকায় চুরি, মারামারি, কিশোরদের বেপরোয়া চলাফেরা এবং সামাজিক অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক অভিভাবক এখন উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

এলাকাবাসীর অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর দিক হলো—প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকর অভিযান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, প্রশাসনের চোখের সামনে যদি মাদকসেবীদের আড্ডা চলে, তাহলে মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা জরুরি। তবে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা প্রয়োজন।

সচেতন মহল মনে করছে, শুধু প্রশাসনিক অভিযান চালালেই মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুমহল ও আচরণগত পরিবর্তনের দিকে অভিভাবকদের নজর দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর দাবি, মোল্লার হাট বাজার ও আশপাশের এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান, মাদক বিক্রেতাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থী-কিশোরদের জন্য নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হোক।

তাদের ভাষ্য, আজকের কিশোর-তরুণরাই আগামী দিনের সমাজের নেতৃত্ব দেবে। তাই মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে তাদের রক্ষা করতে এখনই পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

জনপ্রিয়

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মাটির নিচে লুকানো ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

error: Content is protected !!

মোল্লার বাজারে জুয়া ও মাদকের ভয়াল বিস্তার, আতঙ্কে এলাকাবাসী

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

দশমিনা প্রতিনিধি।

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের মোল্লার হাট বাজার ও আশপাশের এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজার, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশপাশ,মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাজারের পশ্চিম পাশসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত জুয়া ও  মাদকসেবীদের আড্ডা বসছে। এতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের একটি অংশ জুয়া ও মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ায় উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

স্থানীয়দের দাবি, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কলেজ পর্যায়ের অনেক কিশোর-তরুণ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তবে ‘৮০ শতাংশ’ তরুণ মাদকের আওতায়। এলাকাবাসীর ভাষ্য, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে এর ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব পড়তে পারে।

অভিযোগ রয়েছে, মোল্লার হাট বাজারের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যেই মাদকসেবীদের আনাগোনা দেখা যায়। এমনকি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতর ও আশপাশেও মাদকসেবীদের আড্ডার অভিযোগ উঠেছে। বাজারের পশ্চিম পাশসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে তরুণদের জটলা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদকের সহজলভ্যতা ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। পাশাপাশি সন্তানদের প্রতি পরিবারের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতার ঘাটতি এবং সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারাকেও দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো.সোহেল মৃধা বলেন, মাদকের কারণে এলাকায় চুরি, মারামারি, কিশোরদের বেপরোয়া চলাফেরা এবং সামাজিক অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক অভিভাবক এখন উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

এলাকাবাসীর অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর দিক হলো—প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকর অভিযান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, প্রশাসনের চোখের সামনে যদি মাদকসেবীদের আড্ডা চলে, তাহলে মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা জরুরি। তবে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা প্রয়োজন।

সচেতন মহল মনে করছে, শুধু প্রশাসনিক অভিযান চালালেই মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুমহল ও আচরণগত পরিবর্তনের দিকে অভিভাবকদের নজর দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর দাবি, মোল্লার হাট বাজার ও আশপাশের এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান, মাদক বিক্রেতাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থী-কিশোরদের জন্য নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হোক।

তাদের ভাষ্য, আজকের কিশোর-তরুণরাই আগামী দিনের সমাজের নেতৃত্ব দেবে। তাই মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে তাদের রক্ষা করতে এখনই পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।