বান্দরবান প্রতিনিধি:
ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র (কমপ্লেক্স) বান্দরবানের বিরুদ্ধে মৌলভী আবু তাহের নদভী কর্তৃক অনধিকার চর্চা, মিথ্যা অপবাদ ও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র লাইব্রেরির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছে শিক্ষা পরিচালক মাওলানা সাইফুল ইসলাম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হোসাইন মোহাম্মদ ইউনুস। আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক হাফেজ মাওলানা আবদুস সালাম,সিনিয়র শিক্ষক আল্লামা ইসহাকসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
লিখিত বক্তব্যে হোসাইন মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, ১৯৮৯ সালে বান্দরবানের শিক্ষানুরাগী মানুষের উদ্যোগে শাইখুল আরব ওয়াল আজম আল্লামা হযরত ইউনুছ আব্দুল জাব্বার (রহ.) ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি বান্দরবানের শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা বোর্ড (বেফাকুল মাদারিস) এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানে ৪ শতাধিক আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
তিনি জানান, গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসার প্যাডে লিখিত একটি চিঠি তার হাতে আসে। বিষয়টি নিয়ে তিনি একইদিন সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আলোচনা করলে জেলা প্রশাসক ২২ জানুয়ারি নির্ধারিত বৈঠকটি স্থগিত করার নির্দেশ দেন এবং জাতীয় নির্বাচনের পর প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে নতুন করে বৈঠকের তারিখ নির্ধারণের আশ্বাস দেন।
এরপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে মৌলভী আবু তাহের, মৌলভী একরাম ও আব্দুল জলিল কাওকাবের বরাবরে জি.ই.পি যোগে চিঠি প্রেরণ করা হয় বলে জানান তিনি।
অভিযোগ করা হয়, এর পরও ২২ জানুয়ারি মৌলভী আবু তাহের মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীসহ কয়েকজনকে নিয়ে বান্দরবানের একটি স্থানে বৈঠক করে একতরফাভাবে একটি কমিটি গঠন করেন, যা অনধিকার চর্চামূলক এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার কথা বলে তাকে শহরের অন্য একটি স্থানে নেওয়া হয় এবং ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
হোসাইন মোহাম্মদ ইউনুস দাবি করেন, যদি সংশ্লিষ্ট পক্ষ সত্যবাদী হতেন, তবে জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতেই আলোচনায় বসতেন অথবা সরাসরি ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্রে এসে বৈঠক করতেন। তিনি আরও জানান, পটিয়া আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলা দায়রা জজ আদালত ও পরিবেশ আদালতে তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ অবস্থায় কোনো ধরনের সভা বা কমিটি গঠন আদালত অবমাননার শামিল বলে তারা মনে করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্রের সার্বিক কল্যাণে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করা হয়।











