বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবান পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াব্দা ব্রীজ, শেরে বাংলা নগর, আর্মি পাড়া, হোটেল প্লাজা ও এস আলম এলাকাজুড়ে দিন দিন বেড়ে চলেছে চুরি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের সামনেই এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ফলে পুরো এলাকায় এখন আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৩০ মে) দিবাগত গভীর রাতে ওয়াব্দা ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় দুইটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা দোকানের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সিগারেট, দুধ নগদটাকাসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বান্দরবান সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বেলাল জানান,“প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও দোকান বন্ধ করে বাসায় যাই। সকালে এসে দেখি দোকানের বেড়া ভাঙা এবং দোকানের ভেতরের বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়ে গেছে। বর্তমানে এলাকায় রাত যত গভীর হয়, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতাও তত বেড়ে যায়। আমরা ব্যবসায়ীরা এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে এলাকায় ধারাবাহিকভাবে চুরি, ছিনতাই, মাদকসেবন ও কিশোর অপরাধ বেড়ে গেছে। মাত্র দুই দিন আগে ওয়াব্দা ব্রীজ সংলগ্ন মসজিদের পাশে নজরুল নামে এক ফুটপাত ব্যবসায়ীর দোকানেও চুরির ঘটনা ঘটে। এছাড়াও কিছুদিন আগে আল ফারুক ইনস্টিটিউট নামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুতের তার চুরি করা হয়। একইভাবে সান স্টার সমিতির মিটারের তারও চুরি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এলাকায় আরও বিভিন্ন জায়গায় চুরির ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই এলাকার বিভিন্ন স্থানে কিশোরদের জটলা দেখা যায়। গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাদের আড্ডা, মাদকসেবন ও সন্দেহজনক চলাফেরা। বিশেষ করে ওয়াব্দা ব্রীজ এলাকা, শেরে বাংলা নগর ও আশপাশের সড়কগুলোতে সাধারণ মানুষের চলাচল অনেকটাই কমে গেছে। অনেকেই রাতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে ভয় পান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, এলাকার একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে। তাদের দাবি, একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় এক নেতার নেতৃত্ব ও মদদে এই গ্যাং পরিচালিত হচ্ছে। ফলে ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের প্রধান কাজ হলো চুরি, মাদকসেবন, মাদক বিক্রি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা। অনেক সময় তারা পথচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
এদিকে একের পর এক চুরি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা। তারা অবিলম্বে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত পুলিশ টহল বৃদ্ধি, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা এবং কিশোর গ্যাংয়ের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সচেতন মহলের মতে, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি একটি বড় সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র। পরিবার, সমাজ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে এলাকায় নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।










