, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে বান্দরবানে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বান্দরবানে মারমার সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসবে মুখর বান্দরবানে প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ: আমগাছ কাটা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি বান্দরবানে ফুল বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান উৎসব বৈসাবি নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিজিবির সাঁড়াশি অভিযান পাচারের আগেই বিপুল অকটেন-সার জব্দ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বান্দরবানে ঝাড়ু হাতে এমপি, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে জনস্রোত মহা সাংগ্রাই পোয়ে:  উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী মারমা সম্প্রদায়ের খেলাধুলা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত বান্দরবানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ অপহরণ, পুলিশের অভিযানে উদ্ধার বান্দরবানে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বৃত্তি ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত পাহাড়ে তীব্র পানি সংকট, ভরসা ঝিরির কুয়া

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান বমু বিলছড়িতে চকরিয়া–পেকুয়ায়

  • প্রকাশের সময় : ০৩:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪২ পড়া হয়েছে

মুহাম্মাদ আলমগীর, লামা প্রতিনিধি।

ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে রাজনৈতিক তৎপরতা যখন ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে, ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে কক্সবাজার–১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনের রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করল জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাচনী জনসভা। চকরিয়া উপজেলার বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের শহীদ আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এই জনসভা পরিণত হয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ঘোষণার এক তাৎপর্যপূর্ণ মঞ্চে।
গত ২৬ জানুয়ারি, সোমবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “দেশ আজ গভীর রাজনৈতিক ও নৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার না হলে টেকসই উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়।” তিনি দৃঢ় কণ্ঠে উল্লেখ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে ন্যায়, মানবিকতা ও ইনসাফের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় বাস্তবতার দিকেও গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, চকরিয়া–পেকুয়া অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মব-সন্ত্রাসের শিকার। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে প্রয়োজন সামাজিক সম্প্রীতি, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং জনআকাঙ্ক্ষাভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় বক্তব্য প্রদান করেন বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াসউদ্দিন, সদস্য সচিব নুরুল আবছার, বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মোতালেব, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. মোবারক আলী এবং লামা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আমির হোসেন আমু। তাঁরা সকলেই বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপির বিকল্প নেই।
বক্তারা বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল দর্শন হচ্ছে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় সাধারণ মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যার ফলে সমাজে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
জনসভায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস ও সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জনসভাটিকে একটি শক্তিশালী গণসংযোগ কর্মসূচিতে পরিণত করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বমু বিলছড়ির এই জনসভা কেবল একটি নির্বাচনী কর্মসূচি নয়; বরং এটি চকরিয়া–পেকুয়া অঞ্চলে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের একটি স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। আসন্ন নির্বাচনে এ জনসভা স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে বান্দরবানে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা

error: Content is protected !!

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান বমু বিলছড়িতে চকরিয়া–পেকুয়ায়

প্রকাশের সময় : ০৩:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

মুহাম্মাদ আলমগীর, লামা প্রতিনিধি।

ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে রাজনৈতিক তৎপরতা যখন ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে, ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে কক্সবাজার–১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনের রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করল জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাচনী জনসভা। চকরিয়া উপজেলার বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের শহীদ আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এই জনসভা পরিণত হয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ঘোষণার এক তাৎপর্যপূর্ণ মঞ্চে।
গত ২৬ জানুয়ারি, সোমবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “দেশ আজ গভীর রাজনৈতিক ও নৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার না হলে টেকসই উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়।” তিনি দৃঢ় কণ্ঠে উল্লেখ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে ন্যায়, মানবিকতা ও ইনসাফের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় বাস্তবতার দিকেও গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, চকরিয়া–পেকুয়া অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মব-সন্ত্রাসের শিকার। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে প্রয়োজন সামাজিক সম্প্রীতি, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং জনআকাঙ্ক্ষাভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় বক্তব্য প্রদান করেন বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াসউদ্দিন, সদস্য সচিব নুরুল আবছার, বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মোতালেব, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. মোবারক আলী এবং লামা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আমির হোসেন আমু। তাঁরা সকলেই বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপির বিকল্প নেই।
বক্তারা বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল দর্শন হচ্ছে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় সাধারণ মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যার ফলে সমাজে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
জনসভায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস ও সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জনসভাটিকে একটি শক্তিশালী গণসংযোগ কর্মসূচিতে পরিণত করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বমু বিলছড়ির এই জনসভা কেবল একটি নির্বাচনী কর্মসূচি নয়; বরং এটি চকরিয়া–পেকুয়া অঞ্চলে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের একটি স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। আসন্ন নির্বাচনে এ জনসভা স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।