, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে বান্দরবানে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বান্দরবানে মারমার সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসবে মুখর বান্দরবানে প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ: আমগাছ কাটা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি বান্দরবানে ফুল বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান উৎসব বৈসাবি নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিজিবির সাঁড়াশি অভিযান পাচারের আগেই বিপুল অকটেন-সার জব্দ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বান্দরবানে ঝাড়ু হাতে এমপি, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে জনস্রোত মহা সাংগ্রাই পোয়ে:  উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী মারমা সম্প্রদায়ের খেলাধুলা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত বান্দরবানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ অপহরণ, পুলিশের অভিযানে উদ্ধার বান্দরবানে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বৃত্তি ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত পাহাড়ে তীব্র পানি সংকট, ভরসা ঝিরির কুয়া

বান্দরবানে পেট্রোল ও অকটেন সংকট, পাম্পে দীর্ঘ লাইনে চালকরা

  • প্রকাশের সময় : ০৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ২৮ পড়া হয়েছে

রনি সিকদার ( বান্দরবান )

বান্দরবানে হঠাৎ করেই পেট্রোল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারসহ পেট্রোল ও অকটেন চালিত যানবাহনের চালকেরা। জ্বালানি তেলের খোঁজে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটতে দেখা গেছে অনেক চালককে।
রবিবার (৮ মার্চ) সকাল থেকে বান্দরবান সদরের বেশ কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে এমন পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন পাম্পে মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ সারি। তবে পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় অনেক পাম্প থেকে একশ টাকার বেশি অকটেন দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে তেলের অভাবে জেলার অধিকাংশ খুচরা জ্বালানি ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে অকটেন ও পেট্রোল চালিত যানবাহনের চালকেরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক মো. জাহাঙ্গীর জানান, পাহাড়ি এই জনপদে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়েই তার সংসার চলে। তিনি বলেন, “গতকাল পাম্প থেকে ২০০ টাকার অকটেন নিয়েছিলাম। আজ কোনো পাম্পেই তেল পাচ্ছি না। ফলে যাত্রী পরিবহন করতে পারছি না, এতে সংসার চালানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।”
আরেক মোটরসাইকেল চালক রাইসুল ইসলাম বলেন, জরুরি কাজে তাকে পার্শ্ববর্তী কেরানীহাট যেতে হবে, যার দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। কিন্তু তিনটি পাম্প ঘুরে তিনি মাত্র ১০০ টাকার অকটেন পেয়েছেন, যা এক লিটারেরও কম। এত কম তেল দিয়ে যাওয়া-আসা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানান তিনি।
উজমা পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার জুয়েল দাশ বলেন, “গতকাল পর্যন্ত স্টকে যা ছিল সব গ্রাহকদের দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পাম্পে কোনো অকটেন বা পেট্রোল নেই। তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপের কাছে বারবার চাহিদা জানানো হলেও এখনো সরবরাহ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকেও অবহিত করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, সরকারিভাবে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট ঘোষণা করা হয়নি। কেউ যদি তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে, তবে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। মজুদের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
চালকরা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জনপ্রিয়

নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে বান্দরবানে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা

error: Content is protected !!

বান্দরবানে পেট্রোল ও অকটেন সংকট, পাম্পে দীর্ঘ লাইনে চালকরা

প্রকাশের সময় : ০৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

রনি সিকদার ( বান্দরবান )

বান্দরবানে হঠাৎ করেই পেট্রোল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারসহ পেট্রোল ও অকটেন চালিত যানবাহনের চালকেরা। জ্বালানি তেলের খোঁজে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটতে দেখা গেছে অনেক চালককে।
রবিবার (৮ মার্চ) সকাল থেকে বান্দরবান সদরের বেশ কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে এমন পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন পাম্পে মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ সারি। তবে পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় অনেক পাম্প থেকে একশ টাকার বেশি অকটেন দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে তেলের অভাবে জেলার অধিকাংশ খুচরা জ্বালানি ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে অকটেন ও পেট্রোল চালিত যানবাহনের চালকেরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক মো. জাহাঙ্গীর জানান, পাহাড়ি এই জনপদে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়েই তার সংসার চলে। তিনি বলেন, “গতকাল পাম্প থেকে ২০০ টাকার অকটেন নিয়েছিলাম। আজ কোনো পাম্পেই তেল পাচ্ছি না। ফলে যাত্রী পরিবহন করতে পারছি না, এতে সংসার চালানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।”
আরেক মোটরসাইকেল চালক রাইসুল ইসলাম বলেন, জরুরি কাজে তাকে পার্শ্ববর্তী কেরানীহাট যেতে হবে, যার দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। কিন্তু তিনটি পাম্প ঘুরে তিনি মাত্র ১০০ টাকার অকটেন পেয়েছেন, যা এক লিটারেরও কম। এত কম তেল দিয়ে যাওয়া-আসা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানান তিনি।
উজমা পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার জুয়েল দাশ বলেন, “গতকাল পর্যন্ত স্টকে যা ছিল সব গ্রাহকদের দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পাম্পে কোনো অকটেন বা পেট্রোল নেই। তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপের কাছে বারবার চাহিদা জানানো হলেও এখনো সরবরাহ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকেও অবহিত করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, সরকারিভাবে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট ঘোষণা করা হয়নি। কেউ যদি তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে, তবে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। মজুদের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
চালকরা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।