, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মাটির নিচে লুকানো ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণ মাম্যাচিংকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করায় উচ্ছ্বসিত বিএনপি, বান্দরবানে আনন্দ মিছিল অতি শীঘ্রই উপজেলা-পৌরসভা-ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রার্থী ঘোষণা করবে এনসিপি: সারজিস আলম বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তে ৪৯ হাজার ৯৮২ পিস ইয়াবা উদ্ধার বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন, চেয়ারম্যান মাম্যাচিং বান্দরবানে ১ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করছে ‘সাথী’ পার্সেল ডেলিভারি থেকে বাজার-ওষুধ পৌঁছে দেওয়া—এক প্ল্যাটফর্মেই মিলবে নানা অন-ডিমান্ড সেবা ‘৬ রবিউল আউয়াল সকল ঈদের সেরা ঈদ’—বটতলীতে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বেপরোয়া চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে বান্দরবানে মানববন্ধন মোল্লার বাজারে জুয়া ও মাদকের ভয়াল বিস্তার, আতঙ্কে এলাকাবাসী

বান্দরবান জেলা পরিষদ পুনর্গঠন: চেয়ারম্যান পদে আলোচনার কেন্দ্রে ত্যাগী নেত্রী মাম্যাচিং

  • প্রকাশের সময় : ০১:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
  • ৬৩ পড়া হয়েছে

বান্দরবান প্রতিনিধি:
পার্বত্য জেলা বান্দরবান-এ জেলা পরিষদ পুনর্গঠনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কে হচ্ছেন পরবর্তী চেয়ারম্যান—এই প্রশ্নে দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও নানা হিসাব-নিকাশ। এ পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞতা, ত্যাগ এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার কারণে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন পাহাড়ি জনপদের পরীক্ষিত নেত্রী মাম্যাচিং।

জেলা রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা এবং পাহাড়ি-বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে মাম্যাচিং একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের মধ্য থেকেও তাকে চেয়ারম্যান পদে মূল্যায়নের জোরালো প্রত্যাশা দেখা যাচ্ছে।
ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড—দুই ক্ষেত্রেই তিনি সক্রিয় ও সুপরিচিত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর জাতীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় সংসদ-এর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দলীয় রাজনীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত এবং পরবর্তীতে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বান্দরবান জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ-এর চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। মাত্র ৮৫৩ ভোটের ব্যবধান তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। এরপরও দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় থেকে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখেন তিনি। বর্তমানে ২০১২ সাল থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির উপজাতীয় বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো: জাবেদ রেজা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিএনপির দুজন জ্যেষ্ঠ ও পরীক্ষিত নেতা রয়েছেন। তাদের একজন সাচিং প্রু জেরী সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, অন্যজন মাম্যাচিং। তিনি বলেন, “দলের দুঃসময়ে এবং শেষ বয়সেও মাম্যাচিং নিষ্ঠা ও ত্যাগের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক মামলা ও নানা নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি দলের প্রতি অনুগত থেকেছেন। তার অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের সময় এখনই।”
তিনি আরও বলেন, “মাম্যাচিং দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেত্রী। তিনি কখনোই দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাননি। পাহাড়ি বিভিন্ন জনগোষ্ঠী এবং বাঙালি সম্প্রদায়ের কাছেও তিনি আস্থার প্রতীক। আমরা আশা করি, দল তার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে মূল্যায়ন করে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব দেবে।”
জেলা পরিষদ পুনর্গঠন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা যত এগোচ্ছে, ততই সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে জোরালো হচ্ছে মতামত। অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং বহুমাত্রিক গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে মাম্যাচিং  নাম এখন আলোচনার শীর্ষে।

জনপ্রিয়

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মাটির নিচে লুকানো ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

error: Content is protected !!

বান্দরবান জেলা পরিষদ পুনর্গঠন: চেয়ারম্যান পদে আলোচনার কেন্দ্রে ত্যাগী নেত্রী মাম্যাচিং

প্রকাশের সময় : ০১:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

বান্দরবান প্রতিনিধি:
পার্বত্য জেলা বান্দরবান-এ জেলা পরিষদ পুনর্গঠনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কে হচ্ছেন পরবর্তী চেয়ারম্যান—এই প্রশ্নে দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও নানা হিসাব-নিকাশ। এ পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞতা, ত্যাগ এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার কারণে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন পাহাড়ি জনপদের পরীক্ষিত নেত্রী মাম্যাচিং।

জেলা রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা এবং পাহাড়ি-বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে মাম্যাচিং একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের মধ্য থেকেও তাকে চেয়ারম্যান পদে মূল্যায়নের জোরালো প্রত্যাশা দেখা যাচ্ছে।
ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড—দুই ক্ষেত্রেই তিনি সক্রিয় ও সুপরিচিত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর জাতীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় সংসদ-এর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দলীয় রাজনীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত এবং পরবর্তীতে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বান্দরবান জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ-এর চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। মাত্র ৮৫৩ ভোটের ব্যবধান তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। এরপরও দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় থেকে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখেন তিনি। বর্তমানে ২০১২ সাল থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির উপজাতীয় বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো: জাবেদ রেজা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিএনপির দুজন জ্যেষ্ঠ ও পরীক্ষিত নেতা রয়েছেন। তাদের একজন সাচিং প্রু জেরী সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, অন্যজন মাম্যাচিং। তিনি বলেন, “দলের দুঃসময়ে এবং শেষ বয়সেও মাম্যাচিং নিষ্ঠা ও ত্যাগের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক মামলা ও নানা নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি দলের প্রতি অনুগত থেকেছেন। তার অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের সময় এখনই।”
তিনি আরও বলেন, “মাম্যাচিং দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেত্রী। তিনি কখনোই দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাননি। পাহাড়ি বিভিন্ন জনগোষ্ঠী এবং বাঙালি সম্প্রদায়ের কাছেও তিনি আস্থার প্রতীক। আমরা আশা করি, দল তার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে মূল্যায়ন করে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব দেবে।”
জেলা পরিষদ পুনর্গঠন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা যত এগোচ্ছে, ততই সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে জোরালো হচ্ছে মতামত। অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং বহুমাত্রিক গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে মাম্যাচিং  নাম এখন আলোচনার শীর্ষে।