, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বান্দরবান জেলা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতি, ৩০০ জনকে ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা বান্দরবানে গাউছিয়া কমিটির উদ্যোগে বন্যার্ত ৩০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ বান্দরবানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ বিশেষ অভিযানে উদ্ধার ১০ হারানো মোবাইল, প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দিল বান্দরবান সদর থানা বান্দরবানে বন্যাদুর্গত ৭৫ পরিবারের মাঝে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ বন্যাদুর্গতদের পাশে বান্দরবান বিজিবি, ১০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে প্রায় ১৫ লাখ টাকার অবৈধ কাঠ জব্দ তিন পার্বত্য জেলায় ৫৪ শতাংশ বাঙালির আয়কর মওকুফ ও বাজারফান্ড এলাকায় ব্যাংক ঋণ পুনরায় চালুর দাবি বান্দরবানে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের ঈদ উপহার বিতরণ সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি এডভোকেট মাধবী মার্মা বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সেনাবাহিনীর শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ

কমিটি বিরোধে অনিশ্চয়তায় সাংগ্রাই: সময় ফুরোচ্ছে সমাধান অধরাই

  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬০ পড়া হয়েছে

রনি সিকদার, বান্দরবান

প্রতিবছর এই সময়টায় পার্বত্য জেলা বান্দরবানে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের রঙিন আবহ। বিশেষ করে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উৎসবকে ঘিরে রাজার মাঠে জমে ওঠে প্রাণের উচ্ছ্বাস—জলকেলি, বুদ্ধমূর্তি স্নান, পিঠা তৈরি আর নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মুখর থাকে চারদিক।

কিন্তু এবছর সেই পরিচিত আনন্দের চিত্র যেন বদলে গেছে। উৎসবের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও, দুটি কমিটির দ্বন্দ্বে পুরো আয়োজন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। একটি মাঠ, দুটি পক্ষ—কিন্তু নেই কোনো সমঝোতা, নেই আলোচনার টেবিল। ফলে সাংগ্রাই আদৌ হবে কিনা, তা নিয়েই দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৮ মার্চ, যখন ‘উৎসব উদযাপন পরিষদ’ রাজার মাঠে সাংগ্রাই আয়োজনের ঘোষণা দেয়। এর ঠিক একদিন পর, ১৯ মার্চ ‘উৎসব উদযাপন কমিটি’ নামের আরেকটি পক্ষ একই স্থান ও সময়ে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে। এরপর থেকেই দ্বন্দ্ব ক্রমে তীব্র হতে থাকে।

মাঠ ব্যবহারের অনুমতি পেতে উভয় পক্ষই বোমাং সার্কেল চিফের শরণাপন্ন হয়। পরবর্তীতে ‘উৎসব উদযাপন কমিটি’ অনুমতি পেলেও, তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় ‘উৎসব উদযাপন পরিষদ’।

গত ৩ এপ্রিল পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সকালে পরিষদের সভাপতি চনু মং মারমা মাঠে গিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেন। সন্ধ্যায় একই মাঠে উপস্থিত হন কমিটির সভাপতি চথুই ফ্রু, সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী। খবর পেয়ে পরিষদের নেতারাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান। একপর্যায়ে পতাকা সরানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী।

চনু মং মারমা অভিযোগ করেন, তাদের পতাকা উপড়ে ফেলা হলেও বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে তারা প্রতিক্রিয়া দেখাননি। তিনি জানান, তৃতীয় পক্ষের একটি সমঝোতা প্রস্তাবে তারা রাজি থাকলেও, অপর পক্ষ এখনো আলোচনায় বসতে সম্মত হয়নি।

অন্যদিকে চথুই ফ্রু দাবি করেন, মাঠ ব্যবহারের বৈধ অনুমতি তাদের কাছেই রয়েছে এবং ৮ এপ্রিল থেকে তাদের নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী উৎসব শুরু হবে।

এদিকে মারমা সমাজের প্রবীণদের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে এই বিরোধ দীর্ঘমেয়াদে বিভাজন তৈরি করতে পারে। সাবেক সভাপতি অংচ মং মারমা বলেন, একটি পক্ষ সমঝোতায় আগ্রহী হলেও অন্য পক্ষের অনাগ্রহের কারণে এখনো কোনো বৈঠকই সম্ভব হয়নি।

সব মিলিয়ে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, কিন্তু সংকটের সমাধান এখনো অনিশ্চিত। ফলে আনন্দের সাংগ্রাই উৎসব এবার বিরোধের ছায়ায় ঢাকা পড়বে কিনা—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে।

জনপ্রিয়

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বান্দরবান জেলা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতি, ৩০০ জনকে ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা

error: Content is protected !!

কমিটি বিরোধে অনিশ্চয়তায় সাংগ্রাই: সময় ফুরোচ্ছে সমাধান অধরাই

প্রকাশের সময় : ০৭:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

রনি সিকদার, বান্দরবান

প্রতিবছর এই সময়টায় পার্বত্য জেলা বান্দরবানে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের রঙিন আবহ। বিশেষ করে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উৎসবকে ঘিরে রাজার মাঠে জমে ওঠে প্রাণের উচ্ছ্বাস—জলকেলি, বুদ্ধমূর্তি স্নান, পিঠা তৈরি আর নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মুখর থাকে চারদিক।

কিন্তু এবছর সেই পরিচিত আনন্দের চিত্র যেন বদলে গেছে। উৎসবের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও, দুটি কমিটির দ্বন্দ্বে পুরো আয়োজন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। একটি মাঠ, দুটি পক্ষ—কিন্তু নেই কোনো সমঝোতা, নেই আলোচনার টেবিল। ফলে সাংগ্রাই আদৌ হবে কিনা, তা নিয়েই দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৮ মার্চ, যখন ‘উৎসব উদযাপন পরিষদ’ রাজার মাঠে সাংগ্রাই আয়োজনের ঘোষণা দেয়। এর ঠিক একদিন পর, ১৯ মার্চ ‘উৎসব উদযাপন কমিটি’ নামের আরেকটি পক্ষ একই স্থান ও সময়ে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে। এরপর থেকেই দ্বন্দ্ব ক্রমে তীব্র হতে থাকে।

মাঠ ব্যবহারের অনুমতি পেতে উভয় পক্ষই বোমাং সার্কেল চিফের শরণাপন্ন হয়। পরবর্তীতে ‘উৎসব উদযাপন কমিটি’ অনুমতি পেলেও, তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় ‘উৎসব উদযাপন পরিষদ’।

গত ৩ এপ্রিল পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সকালে পরিষদের সভাপতি চনু মং মারমা মাঠে গিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেন। সন্ধ্যায় একই মাঠে উপস্থিত হন কমিটির সভাপতি চথুই ফ্রু, সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী। খবর পেয়ে পরিষদের নেতারাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান। একপর্যায়ে পতাকা সরানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী।

চনু মং মারমা অভিযোগ করেন, তাদের পতাকা উপড়ে ফেলা হলেও বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে তারা প্রতিক্রিয়া দেখাননি। তিনি জানান, তৃতীয় পক্ষের একটি সমঝোতা প্রস্তাবে তারা রাজি থাকলেও, অপর পক্ষ এখনো আলোচনায় বসতে সম্মত হয়নি।

অন্যদিকে চথুই ফ্রু দাবি করেন, মাঠ ব্যবহারের বৈধ অনুমতি তাদের কাছেই রয়েছে এবং ৮ এপ্রিল থেকে তাদের নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী উৎসব শুরু হবে।

এদিকে মারমা সমাজের প্রবীণদের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে এই বিরোধ দীর্ঘমেয়াদে বিভাজন তৈরি করতে পারে। সাবেক সভাপতি অংচ মং মারমা বলেন, একটি পক্ষ সমঝোতায় আগ্রহী হলেও অন্য পক্ষের অনাগ্রহের কারণে এখনো কোনো বৈঠকই সম্ভব হয়নি।

সব মিলিয়ে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, কিন্তু সংকটের সমাধান এখনো অনিশ্চিত। ফলে আনন্দের সাংগ্রাই উৎসব এবার বিরোধের ছায়ায় ঢাকা পড়বে কিনা—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে।