, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে বান্দরবানে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন, আনসার-ভিডিপি জেলা কমান্ড্যান্ট শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বান্দরবান সেনা জোনের আর্থিক অনুদান বিতরণ বান্দরবানে সাকসেস একাডেমিক অ্যান্ড অ্যাডমিশন কেয়ারের অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ক্যান্সার আক্রান্ত আসমার পাশে মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, চিকিৎসায় নগদ অর্থ সহায়তা সূর্যমুখী শিশু কিশোর ফাউন্ডেশন এর ২৯ তম প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা উপকরণ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত। বান্দরবানে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস পালিত জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ৭ মাসের শিশু আহাদ, বাঁচাতে প্রয়োজন মানবিক সহযোগিতা। বান্দরবানের বালাঘাটার শিশু আব্দুল্লাহ আল আহাদ চট্টগ্রামের ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে; চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার  লামায় নদীর ঘাটে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালালো পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ বান্দরবানে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত, অংশ নিলেন মাধবী মার্মা এমপি

পাহাড়ে তীব্র পানি সংকট, ভরসা ঝিরির কুয়া

  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০৮ পড়া হয়েছে

রনি সিকদার, বান্দরবান

পাহাড়ি জনপদে পানি সংকট যেন নিত্যদিনের বাস্তবতা। শুষ্ক মৌসুম শুরু হলেই এই সংকট ভয়াবহ রূপ নেয়। বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের আমতলি মারমা পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, নিরাপদ পানির উৎস না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে ঝিরির পাশে গর্ত খুঁড়ে জমে থাকা পানির ওপর নির্ভর করছেন—যা স্থানীয়ভাবে ‘কুয়া’ নামে পরিচিত।

এলাকাটিতে প্রায় ১৬০টি পরিবারের বিপরীতে রয়েছে মাত্র একটি টিউবওয়েল ও দুটি রিংওয়েল। কিন্তু সেগুলো থেকেও পর্যাপ্ত পানি উঠছে না। ফলে ভোর থেকেই পানির জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয় বাসিন্দাদের। অনেকে সময় বাঁচাতে ঝিরির পাশে গর্ত খুঁড়ে পানি সংগ্রহ করেন।

স্থানীয়রা জানান, ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকেই পানির সংকট শুরু হয়, যা মার্চ থেকে মে মাসে চরম আকার ধারণ করে। বর্ষা না আসা পর্যন্ত এই দুর্ভোগ লাঘব হয় না। খালের পানি দিয়ে গৃহস্থালি কাজ চালানো গেলেও নিরাপদ খাবার পানির সংকটই সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে তাদের।

আমতলি পাড়ার বাসিন্দা উসাইঅং মারমা বলেন, “আগে এই এলাকায় পানির এত সংকট ছিল না। চারপাশে বনজঙ্গল বেশি ছিল, খালেও পানি থাকত সারা বছর। এখন জনসংখ্যা বেড়েছে, বন কমেছে—সংকটও বেড়েছে।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই এলাকায় টিউবওয়েল কার্যকর নয়। সুয়ালক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উক্যনু মারমা জানান, পানি সংকট নিরসনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরে একাধিক রিংওয়েল স্থাপনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ি এলাকার মাটির গঠন ভিন্ন হওয়ায় পানির স্তর অনেক নিচে থাকে এবং তা পাথুরে স্তরে আটকে থাকে। ফলে সাধারণ পদ্ধতিতে টিউবওয়েল বসিয়ে পানি পাওয়া কঠিন। এ কারণে এলাকাভিত্তিক উপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহার ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

অন্যদিকে চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এ ধরনের কুয়ার পানি সরাসরি পান করা স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। পানি ছেঁকে ও ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিলেও বাস্তবে অনেকেই তা মানছেন না। ফলে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের পাশেই তৈরি এসব কুয়ার আশপাশে কাপড় ধোয়া, গোসলসহ নানা কাজ চলছে। এতে পানির দূষণের আশঙ্কা আরও বেড়ে যাচ্ছে। তবুও বিকল্প না থাকায় এই পানি দিয়েই জীবনযাপন করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অতীতে খালের উজানে পাথর উত্তোলন ও বন উজাড়ের কারণে পানির উৎস আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে এসব কার্যক্রম কমলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি।

পাহাড়ের মানুষের প্রশ্ন—আর কতদিন এভাবে ঝুঁকি নিয়ে কুয়ার পানি খেতে হবে? নিরাপদ পানির টেকসই সমাধান কবে মিলবে, সেই অপেক্ষাতেই দিন গুনছেন তারা।

জনপ্রিয়

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে বান্দরবানে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন, আনসার-ভিডিপি জেলা কমান্ড্যান্ট

error: Content is protected !!

পাহাড়ে তীব্র পানি সংকট, ভরসা ঝিরির কুয়া

প্রকাশের সময় : ০৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

রনি সিকদার, বান্দরবান

পাহাড়ি জনপদে পানি সংকট যেন নিত্যদিনের বাস্তবতা। শুষ্ক মৌসুম শুরু হলেই এই সংকট ভয়াবহ রূপ নেয়। বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের আমতলি মারমা পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, নিরাপদ পানির উৎস না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে ঝিরির পাশে গর্ত খুঁড়ে জমে থাকা পানির ওপর নির্ভর করছেন—যা স্থানীয়ভাবে ‘কুয়া’ নামে পরিচিত।

এলাকাটিতে প্রায় ১৬০টি পরিবারের বিপরীতে রয়েছে মাত্র একটি টিউবওয়েল ও দুটি রিংওয়েল। কিন্তু সেগুলো থেকেও পর্যাপ্ত পানি উঠছে না। ফলে ভোর থেকেই পানির জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয় বাসিন্দাদের। অনেকে সময় বাঁচাতে ঝিরির পাশে গর্ত খুঁড়ে পানি সংগ্রহ করেন।

স্থানীয়রা জানান, ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকেই পানির সংকট শুরু হয়, যা মার্চ থেকে মে মাসে চরম আকার ধারণ করে। বর্ষা না আসা পর্যন্ত এই দুর্ভোগ লাঘব হয় না। খালের পানি দিয়ে গৃহস্থালি কাজ চালানো গেলেও নিরাপদ খাবার পানির সংকটই সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে তাদের।

আমতলি পাড়ার বাসিন্দা উসাইঅং মারমা বলেন, “আগে এই এলাকায় পানির এত সংকট ছিল না। চারপাশে বনজঙ্গল বেশি ছিল, খালেও পানি থাকত সারা বছর। এখন জনসংখ্যা বেড়েছে, বন কমেছে—সংকটও বেড়েছে।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই এলাকায় টিউবওয়েল কার্যকর নয়। সুয়ালক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উক্যনু মারমা জানান, পানি সংকট নিরসনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরে একাধিক রিংওয়েল স্থাপনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ি এলাকার মাটির গঠন ভিন্ন হওয়ায় পানির স্তর অনেক নিচে থাকে এবং তা পাথুরে স্তরে আটকে থাকে। ফলে সাধারণ পদ্ধতিতে টিউবওয়েল বসিয়ে পানি পাওয়া কঠিন। এ কারণে এলাকাভিত্তিক উপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহার ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

অন্যদিকে চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এ ধরনের কুয়ার পানি সরাসরি পান করা স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। পানি ছেঁকে ও ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিলেও বাস্তবে অনেকেই তা মানছেন না। ফলে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের পাশেই তৈরি এসব কুয়ার আশপাশে কাপড় ধোয়া, গোসলসহ নানা কাজ চলছে। এতে পানির দূষণের আশঙ্কা আরও বেড়ে যাচ্ছে। তবুও বিকল্প না থাকায় এই পানি দিয়েই জীবনযাপন করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অতীতে খালের উজানে পাথর উত্তোলন ও বন উজাড়ের কারণে পানির উৎস আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে এসব কার্যক্রম কমলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি।

পাহাড়ের মানুষের প্রশ্ন—আর কতদিন এভাবে ঝুঁকি নিয়ে কুয়ার পানি খেতে হবে? নিরাপদ পানির টেকসই সমাধান কবে মিলবে, সেই অপেক্ষাতেই দিন গুনছেন তারা।