, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঈদুল আযহা উপলক্ষে বান্দরবানে এনসিপির ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত বান্দরবান পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রশাসনের নাকের ডগায় চুরি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, আতঙ্কে এলাকাবাসী বান্দরবানে চাঁদাবাজি ও হুমকির অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা হাসান গণপিটুনির পর পুলিশে সোপর্দ নারী ও শিশু উন্নয়নে কাজের অঙ্গীকার সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মাধবী মার্মার বান্দরবান সার্বজনীন কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারের দ্বিবার্ষিকী নবগঠিত কমিটি গঠন ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে ১০ লাখ টাকা পেলেন বান্দরবানের সুপ্রকাশ চাকমা বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে সকল অসহায় পরিবারের ভাগ্য বদলাতে কাজ করবেন এমপি সাচিং প্রু জেরী। বান্দরবানে চেকপোস্টে ২১ রোহিঙ্গা আটক কাজুবাদাম ও কফি চাষে আধুনিক প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে রোয়াংছড়িতে প্রশিক্ষণ ও মাঠ দিবস আয়োজন বান্দরবানে মহান আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

পাহাড়ে তীব্র পানি সংকট, ভরসা ঝিরির কুয়া

  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৯ পড়া হয়েছে

রনি সিকদার, বান্দরবান

পাহাড়ি জনপদে পানি সংকট যেন নিত্যদিনের বাস্তবতা। শুষ্ক মৌসুম শুরু হলেই এই সংকট ভয়াবহ রূপ নেয়। বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের আমতলি মারমা পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, নিরাপদ পানির উৎস না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে ঝিরির পাশে গর্ত খুঁড়ে জমে থাকা পানির ওপর নির্ভর করছেন—যা স্থানীয়ভাবে ‘কুয়া’ নামে পরিচিত।

এলাকাটিতে প্রায় ১৬০টি পরিবারের বিপরীতে রয়েছে মাত্র একটি টিউবওয়েল ও দুটি রিংওয়েল। কিন্তু সেগুলো থেকেও পর্যাপ্ত পানি উঠছে না। ফলে ভোর থেকেই পানির জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয় বাসিন্দাদের। অনেকে সময় বাঁচাতে ঝিরির পাশে গর্ত খুঁড়ে পানি সংগ্রহ করেন।

স্থানীয়রা জানান, ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকেই পানির সংকট শুরু হয়, যা মার্চ থেকে মে মাসে চরম আকার ধারণ করে। বর্ষা না আসা পর্যন্ত এই দুর্ভোগ লাঘব হয় না। খালের পানি দিয়ে গৃহস্থালি কাজ চালানো গেলেও নিরাপদ খাবার পানির সংকটই সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে তাদের।

আমতলি পাড়ার বাসিন্দা উসাইঅং মারমা বলেন, “আগে এই এলাকায় পানির এত সংকট ছিল না। চারপাশে বনজঙ্গল বেশি ছিল, খালেও পানি থাকত সারা বছর। এখন জনসংখ্যা বেড়েছে, বন কমেছে—সংকটও বেড়েছে।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই এলাকায় টিউবওয়েল কার্যকর নয়। সুয়ালক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উক্যনু মারমা জানান, পানি সংকট নিরসনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরে একাধিক রিংওয়েল স্থাপনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ি এলাকার মাটির গঠন ভিন্ন হওয়ায় পানির স্তর অনেক নিচে থাকে এবং তা পাথুরে স্তরে আটকে থাকে। ফলে সাধারণ পদ্ধতিতে টিউবওয়েল বসিয়ে পানি পাওয়া কঠিন। এ কারণে এলাকাভিত্তিক উপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহার ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

অন্যদিকে চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এ ধরনের কুয়ার পানি সরাসরি পান করা স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। পানি ছেঁকে ও ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিলেও বাস্তবে অনেকেই তা মানছেন না। ফলে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের পাশেই তৈরি এসব কুয়ার আশপাশে কাপড় ধোয়া, গোসলসহ নানা কাজ চলছে। এতে পানির দূষণের আশঙ্কা আরও বেড়ে যাচ্ছে। তবুও বিকল্প না থাকায় এই পানি দিয়েই জীবনযাপন করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অতীতে খালের উজানে পাথর উত্তোলন ও বন উজাড়ের কারণে পানির উৎস আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে এসব কার্যক্রম কমলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি।

পাহাড়ের মানুষের প্রশ্ন—আর কতদিন এভাবে ঝুঁকি নিয়ে কুয়ার পানি খেতে হবে? নিরাপদ পানির টেকসই সমাধান কবে মিলবে, সেই অপেক্ষাতেই দিন গুনছেন তারা।

ঈদুল আযহা উপলক্ষে বান্দরবানে এনসিপির ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

error: Content is protected !!

পাহাড়ে তীব্র পানি সংকট, ভরসা ঝিরির কুয়া

প্রকাশের সময় : ০৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

রনি সিকদার, বান্দরবান

পাহাড়ি জনপদে পানি সংকট যেন নিত্যদিনের বাস্তবতা। শুষ্ক মৌসুম শুরু হলেই এই সংকট ভয়াবহ রূপ নেয়। বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের আমতলি মারমা পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, নিরাপদ পানির উৎস না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে ঝিরির পাশে গর্ত খুঁড়ে জমে থাকা পানির ওপর নির্ভর করছেন—যা স্থানীয়ভাবে ‘কুয়া’ নামে পরিচিত।

এলাকাটিতে প্রায় ১৬০টি পরিবারের বিপরীতে রয়েছে মাত্র একটি টিউবওয়েল ও দুটি রিংওয়েল। কিন্তু সেগুলো থেকেও পর্যাপ্ত পানি উঠছে না। ফলে ভোর থেকেই পানির জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয় বাসিন্দাদের। অনেকে সময় বাঁচাতে ঝিরির পাশে গর্ত খুঁড়ে পানি সংগ্রহ করেন।

স্থানীয়রা জানান, ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকেই পানির সংকট শুরু হয়, যা মার্চ থেকে মে মাসে চরম আকার ধারণ করে। বর্ষা না আসা পর্যন্ত এই দুর্ভোগ লাঘব হয় না। খালের পানি দিয়ে গৃহস্থালি কাজ চালানো গেলেও নিরাপদ খাবার পানির সংকটই সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে তাদের।

আমতলি পাড়ার বাসিন্দা উসাইঅং মারমা বলেন, “আগে এই এলাকায় পানির এত সংকট ছিল না। চারপাশে বনজঙ্গল বেশি ছিল, খালেও পানি থাকত সারা বছর। এখন জনসংখ্যা বেড়েছে, বন কমেছে—সংকটও বেড়েছে।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই এলাকায় টিউবওয়েল কার্যকর নয়। সুয়ালক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উক্যনু মারমা জানান, পানি সংকট নিরসনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরে একাধিক রিংওয়েল স্থাপনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ি এলাকার মাটির গঠন ভিন্ন হওয়ায় পানির স্তর অনেক নিচে থাকে এবং তা পাথুরে স্তরে আটকে থাকে। ফলে সাধারণ পদ্ধতিতে টিউবওয়েল বসিয়ে পানি পাওয়া কঠিন। এ কারণে এলাকাভিত্তিক উপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহার ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

অন্যদিকে চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এ ধরনের কুয়ার পানি সরাসরি পান করা স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। পানি ছেঁকে ও ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিলেও বাস্তবে অনেকেই তা মানছেন না। ফলে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের পাশেই তৈরি এসব কুয়ার আশপাশে কাপড় ধোয়া, গোসলসহ নানা কাজ চলছে। এতে পানির দূষণের আশঙ্কা আরও বেড়ে যাচ্ছে। তবুও বিকল্প না থাকায় এই পানি দিয়েই জীবনযাপন করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অতীতে খালের উজানে পাথর উত্তোলন ও বন উজাড়ের কারণে পানির উৎস আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে এসব কার্যক্রম কমলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি।

পাহাড়ের মানুষের প্রশ্ন—আর কতদিন এভাবে ঝুঁকি নিয়ে কুয়ার পানি খেতে হবে? নিরাপদ পানির টেকসই সমাধান কবে মিলবে, সেই অপেক্ষাতেই দিন গুনছেন তারা।