বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবানে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারের লক্ষ্যে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে “সম্প্রীতির ভলিবল টুর্নামেন্ট-২০২৬”।
বান্দরবান সেনা জোনের উদ্যোগে বুধবার (১০ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় বান্দরবান সেনা জোন মাঠে এই প্রীতি ভলিবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বান্দরবান সেনা জোন দল এবং বান্দরবান সম্মিলিত ক্রীড়া পরিষদ দল। খেলাটি ঘিরে সেনা জোন মাঠে সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত ও উৎসবের আমেজ। বিপুল সংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকের উপস্থিতিতে পুরো মাঠজুড়ে ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সেনা জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মোহাম্মদ হুমায়ুন রশীদ, পিএসসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জোন উপ-অধিনায়ক মেজর নাফিউ সিদ্দিকী রোমান, পিএসসি এবং বান্দরবান জেলা ক্রীড়া অফিসার মোঃ রেজাউল করিম। এছাড়াও সেনা জোনের অন্যান্য কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ক্রীড়া সংগঠক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
খেলাটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উপভোগ্য। দুই দলের খেলোয়াড়দের চমৎকার নৈপুণ্য, কৌশলী পারফরম্যান্স, দলগত সমন্বয় এবং খেলোয়াড়সুলভ আচরণ দর্শকদের মুগ্ধ করে। প্রতিটি সেটে ছিল টানটান উত্তেজনা, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে বাড়তি উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লে. কর্নেল মোহাম্মদ হুমায়ুন রশীদ, পিএসসি বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত কার্যকর। ভবিষ্যতেও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সামাজিক ও সম্প্রীতিমূলক ক্রীড়া কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী উভয় দলের খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, খেলোয়াড়দের আন্তরিকতা ও চমৎকার পারফরম্যান্স সত্যিই প্রশংসনীয়। এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ তরুণ সমাজকে খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বান্দরবান সম্মিলিত ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে তাদের হাতে বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর এই সহযোগিতামূলক উদ্যোগকে স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকরা সাধুবাদ জানান। তারা বলেন, এ ধরনের সহায়তা জেলার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সবশেষে সম্প্রীতির এই আয়োজন উপস্থিত সকলের প্রশংসা কুড়ায়। খেলাধুলার মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।













