, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বান্দরবান জেলা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতি, ৩০০ জনকে ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা বান্দরবানে গাউছিয়া কমিটির উদ্যোগে বন্যার্ত ৩০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ বান্দরবানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ বিশেষ অভিযানে উদ্ধার ১০ হারানো মোবাইল, প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দিল বান্দরবান সদর থানা বান্দরবানে বন্যাদুর্গত ৭৫ পরিবারের মাঝে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ বন্যাদুর্গতদের পাশে বান্দরবান বিজিবি, ১০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে প্রায় ১৫ লাখ টাকার অবৈধ কাঠ জব্দ তিন পার্বত্য জেলায় ৫৪ শতাংশ বাঙালির আয়কর মওকুফ ও বাজারফান্ড এলাকায় ব্যাংক ঋণ পুনরায় চালুর দাবি বান্দরবানে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের ঈদ উপহার বিতরণ সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি এডভোকেট মাধবী মার্মা বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সেনাবাহিনীর শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ

রুমায় চরম শিক্ষক সংকটে প্রংফুংমগ পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়

  • প্রকাশের সময় : ০৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৪৯ পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

বান্দরবানের রুমা উপজেলা সদর ইউনিয়নের বগালেকগামী সড়কের পাশে অবস্থিত প্রংফুংমগ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ শিক্ষক সংকটে ভুগছে।
বিদ্যালয়ে তিনজন শিক্ষক পদায়ন থাকলেও বর্তমানে মাত্র একজন শিক্ষকই একাই পুরো বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে এলাকার শতাধিক শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে শিক্ষা বঞ্চনার শিকার হচ্ছে।
শিক্ষকরা নিয়মিত না এসে, প্রতিমাসে তোলা হয় সরকারি বেতন।

আজ (৫ নভেম্বর) বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়ে কেবল একজন শিক্ষক উপস্থিত থেকে একাই সব শ্রেণির পাঠদান চালাচ্ছেন। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রবণ কান্তি দেব বলেন,
“আজ বিদ্যালয়ে শুধু আমি রয়েছি, অন্য দুইজন শিক্ষক আসেননি।”
ছুটি সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি।

সহকারী শিক্ষক ফয়সাল বিন মোস্তাফিজ জানান, তিনি “প্রধান শিক্ষকের মৌখিক অনুমতি নিয়ে” গত চার দিন ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। তবে লিখিত ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত থাকা শৃঙ্খলাভঙ্গ—এই প্রশ্নে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
অন্য সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দীনের মোবাইল ফোন একাধিকবার চেষ্টা করেও বন্ধ পাওয়া গেছে, ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়টি সড়কের একেবারে পাশে হলেও অধিকাংশ শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না। সরকারি বেতন-ভাতা ঠিকই তোলা হয়, কিন্তু দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা ও অনিয়ম লক্ষ্য করা যায়। মাসের পর মাস শহরে অবস্থান করে অনেকে ‘মৌখিক ছুটি’র অজুহাতে অনুপস্থিত থাকেন। ফলে পাহাড়ি জনপদের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমাদের ছেলে-মেয়েরা প্রতিদিন স্কুলে গিয়ে খালি ক্লাসরুম দেখে ফিরে আসে। সরকার এত উদ্যোগ নিচ্ছে, কিন্তু শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার উন্নয়ন হবে কীভাবে?”
পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়,“আমাদের স্কুলে কোনো দিন তিনজন শিক্ষক একসঙ্গে ক্লাস নেননি। প্রায় সব ক্লাসই একজন স্যার একাই করান।”

উপজেলা শিক্ষা অফিসার আশিষ চিরান বলেন,
“সরকারি ছুটি ব্যতীত কিংবা ছুটির আবেদন ছাড়া কেউ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণ বলেন,
“এভাবে যদি শিক্ষা কার্যক্রম চলতে থাকে, তবে পাহাড়ি অঞ্চলের শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে।”
তাঁরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতি আহ্বান জানান– অবিলম্বে শিক্ষক সংকট নিরসন।

জনপ্রিয়

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বান্দরবান জেলা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতি, ৩০০ জনকে ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা

error: Content is protected !!

রুমায় চরম শিক্ষক সংকটে প্রংফুংমগ পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রকাশের সময় : ০৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

নিউজ ডেস্ক:

বান্দরবানের রুমা উপজেলা সদর ইউনিয়নের বগালেকগামী সড়কের পাশে অবস্থিত প্রংফুংমগ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ শিক্ষক সংকটে ভুগছে।
বিদ্যালয়ে তিনজন শিক্ষক পদায়ন থাকলেও বর্তমানে মাত্র একজন শিক্ষকই একাই পুরো বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে এলাকার শতাধিক শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে শিক্ষা বঞ্চনার শিকার হচ্ছে।
শিক্ষকরা নিয়মিত না এসে, প্রতিমাসে তোলা হয় সরকারি বেতন।

আজ (৫ নভেম্বর) বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়ে কেবল একজন শিক্ষক উপস্থিত থেকে একাই সব শ্রেণির পাঠদান চালাচ্ছেন। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রবণ কান্তি দেব বলেন,
“আজ বিদ্যালয়ে শুধু আমি রয়েছি, অন্য দুইজন শিক্ষক আসেননি।”
ছুটি সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি।

সহকারী শিক্ষক ফয়সাল বিন মোস্তাফিজ জানান, তিনি “প্রধান শিক্ষকের মৌখিক অনুমতি নিয়ে” গত চার দিন ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। তবে লিখিত ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত থাকা শৃঙ্খলাভঙ্গ—এই প্রশ্নে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
অন্য সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দীনের মোবাইল ফোন একাধিকবার চেষ্টা করেও বন্ধ পাওয়া গেছে, ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়টি সড়কের একেবারে পাশে হলেও অধিকাংশ শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না। সরকারি বেতন-ভাতা ঠিকই তোলা হয়, কিন্তু দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা ও অনিয়ম লক্ষ্য করা যায়। মাসের পর মাস শহরে অবস্থান করে অনেকে ‘মৌখিক ছুটি’র অজুহাতে অনুপস্থিত থাকেন। ফলে পাহাড়ি জনপদের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমাদের ছেলে-মেয়েরা প্রতিদিন স্কুলে গিয়ে খালি ক্লাসরুম দেখে ফিরে আসে। সরকার এত উদ্যোগ নিচ্ছে, কিন্তু শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার উন্নয়ন হবে কীভাবে?”
পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়,“আমাদের স্কুলে কোনো দিন তিনজন শিক্ষক একসঙ্গে ক্লাস নেননি। প্রায় সব ক্লাসই একজন স্যার একাই করান।”

উপজেলা শিক্ষা অফিসার আশিষ চিরান বলেন,
“সরকারি ছুটি ব্যতীত কিংবা ছুটির আবেদন ছাড়া কেউ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণ বলেন,
“এভাবে যদি শিক্ষা কার্যক্রম চলতে থাকে, তবে পাহাড়ি অঞ্চলের শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে।”
তাঁরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতি আহ্বান জানান– অবিলম্বে শিক্ষক সংকট নিরসন।