, শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মাটির নিচে লুকানো ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণ মাম্যাচিংকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করায় উচ্ছ্বসিত বিএনপি, বান্দরবানে আনন্দ মিছিল অতি শীঘ্রই উপজেলা-পৌরসভা-ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রার্থী ঘোষণা করবে এনসিপি: সারজিস আলম বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তে ৪৯ হাজার ৯৮২ পিস ইয়াবা উদ্ধার বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন, চেয়ারম্যান মাম্যাচিং বান্দরবানে ১ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করছে ‘সাথী’ পার্সেল ডেলিভারি থেকে বাজার-ওষুধ পৌঁছে দেওয়া—এক প্ল্যাটফর্মেই মিলবে নানা অন-ডিমান্ড সেবা ‘৬ রবিউল আউয়াল সকল ঈদের সেরা ঈদ’—বটতলীতে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বেপরোয়া চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে বান্দরবানে মানববন্ধন মোল্লার বাজারে জুয়া ও মাদকের ভয়াল বিস্তার, আতঙ্কে এলাকাবাসী

পার্বত্য চট্টগ্রামে ছয় মাসে ২৪০ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

  • প্রকাশের সময় : ১০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ২৭ পড়া হয়েছে

রনি সিকদার,বান্দরবান প্রতিনিধি। 

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। অপহরণ, হত্যা, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, নারী নির্যাতন এবং শিশু-কিশোরদের জোরপূর্বক সংঘাতমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মতো ঘটনাগুলো পার্বত্য অঞ্চলের সামগ্রিক জননিরাপত্তা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে বলে সংগঠনটির দাবি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে বান্দরবান প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত “পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, অপহরণ, চাঁদাবাজি, হত্যা, ভূমি দখল এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

সংগঠনের উপস্থাপিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে ৪৭টি অপহরণ ও ১৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক, পরিবহন চালক ও শিক্ষার্থীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের প্রবণতাও বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ৭০ জনের বেশি শিশু ও তরুণকে জোরপূর্বক নিজেদের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করেছে। একই সময়ে অন্তত ১৪ জন নারী অপহরণ, প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংগঠনটির অভিযোগ, অবৈধ চাঁদাবাজি বর্তমানে কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর অন্যতম অর্থায়নের উৎসে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক বছরে পার্বত্য অঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ৫২০টি চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। কাঠ ব্যবসায়ী, ওষুধ কোম্পানি, পরিবেশক প্রতিষ্ঠান এবং পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগও তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার উদাহরণও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রাঙ্গামাটিতে উন্নয়নকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের মারধর করে চাঁদা দাবি, বান্দরবানে পণ্যবাহী ট্রাক আটকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবির ঘটনা, ভূমি দখল ও দখলচেষ্টার অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র ও মাদক পাচার এবং সশস্ত্র প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিষয় উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, কিছু আঞ্চলিক সংগঠন আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে সহানুভূতি ও সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে নিজেদের চাঁদাবাজি, অস্ত্র চোরাচালান ও সহিংস কর্মকাণ্ড আড়াল করতে রাষ্ট্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, ভূমি বিরোধের ন্যায্য সমাধান এবং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবি জানায় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. নাছির উদ্দিন, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. শাহজালাল, বান্দরবান জেলা ছাত্র পরিষদের সভাপতি মো. আসিফ ইকবাল এবং সাধারণ সম্পাদক মো. তানভির হোসেন ইমন।

বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সকল নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও মানবাধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও সকল নাগরিকের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

জনপ্রিয়

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মাটির নিচে লুকানো ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

error: Content is protected !!

পার্বত্য চট্টগ্রামে ছয় মাসে ২৪০ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

প্রকাশের সময় : ১০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

রনি সিকদার,বান্দরবান প্রতিনিধি। 

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। অপহরণ, হত্যা, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, নারী নির্যাতন এবং শিশু-কিশোরদের জোরপূর্বক সংঘাতমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মতো ঘটনাগুলো পার্বত্য অঞ্চলের সামগ্রিক জননিরাপত্তা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে বলে সংগঠনটির দাবি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে বান্দরবান প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত “পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, অপহরণ, চাঁদাবাজি, হত্যা, ভূমি দখল এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

সংগঠনের উপস্থাপিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে ৪৭টি অপহরণ ও ১৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক, পরিবহন চালক ও শিক্ষার্থীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের প্রবণতাও বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ৭০ জনের বেশি শিশু ও তরুণকে জোরপূর্বক নিজেদের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করেছে। একই সময়ে অন্তত ১৪ জন নারী অপহরণ, প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংগঠনটির অভিযোগ, অবৈধ চাঁদাবাজি বর্তমানে কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর অন্যতম অর্থায়নের উৎসে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক বছরে পার্বত্য অঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ৫২০টি চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। কাঠ ব্যবসায়ী, ওষুধ কোম্পানি, পরিবেশক প্রতিষ্ঠান এবং পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগও তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার উদাহরণও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রাঙ্গামাটিতে উন্নয়নকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের মারধর করে চাঁদা দাবি, বান্দরবানে পণ্যবাহী ট্রাক আটকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবির ঘটনা, ভূমি দখল ও দখলচেষ্টার অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র ও মাদক পাচার এবং সশস্ত্র প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিষয় উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, কিছু আঞ্চলিক সংগঠন আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে সহানুভূতি ও সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে নিজেদের চাঁদাবাজি, অস্ত্র চোরাচালান ও সহিংস কর্মকাণ্ড আড়াল করতে রাষ্ট্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, ভূমি বিরোধের ন্যায্য সমাধান এবং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবি জানায় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. নাছির উদ্দিন, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. শাহজালাল, বান্দরবান জেলা ছাত্র পরিষদের সভাপতি মো. আসিফ ইকবাল এবং সাধারণ সম্পাদক মো. তানভির হোসেন ইমন।

বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সকল নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও মানবাধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও সকল নাগরিকের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।