, শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মাটির নিচে লুকানো ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণ মাম্যাচিংকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করায় উচ্ছ্বসিত বিএনপি, বান্দরবানে আনন্দ মিছিল অতি শীঘ্রই উপজেলা-পৌরসভা-ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রার্থী ঘোষণা করবে এনসিপি: সারজিস আলম বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তে ৪৯ হাজার ৯৮২ পিস ইয়াবা উদ্ধার বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন, চেয়ারম্যান মাম্যাচিং বান্দরবানে ১ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করছে ‘সাথী’ পার্সেল ডেলিভারি থেকে বাজার-ওষুধ পৌঁছে দেওয়া—এক প্ল্যাটফর্মেই মিলবে নানা অন-ডিমান্ড সেবা ‘৬ রবিউল আউয়াল সকল ঈদের সেরা ঈদ’—বটতলীতে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বেপরোয়া চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে বান্দরবানে মানববন্ধন মোল্লার বাজারে জুয়া ও মাদকের ভয়াল বিস্তার, আতঙ্কে এলাকাবাসী

বান্দরবানে শেষ হলো ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬

  • প্রকাশের সময় : ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ১৯ পড়া হয়েছে

বান্দরবান প্রতিনিধি:

“বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বান্দরবানে ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, বনজ সম্পদ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত এ মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বান্দরবান জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস
বান্দরবান বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ সরদার, পাল্পউড প্ল্যান্টেশন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক রিটা আক্তার, সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী মো. সাইফুল ইসলাম, টংকাবতী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রাফি-উদ-দৌলা সরদার, রুমা রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ রহমান, পাইন্দু রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সোহেল হোসেন, সুয়ালক চেক স্টেশন অফিসার মো. আবুল হোসেন, পাল্পউড প্ল্যান্টেশন বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জসীম উদ্দিন, তারাছা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাসুম কবীর, রোয়াংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শফিকুল আমিনসহ বন বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, প্রতিটি চারা সঠিকভাবে পরিচর্যা করে বড় করে তোলার দায়িত্বও সবাইকে নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিপক্ব ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণ করে সেখানে নতুন গাছ রোপণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

আয়োজকরা জানান, গত ২০ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২৯ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা এই ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলায় ফলজ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা নিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক স্টল অংশগ্রহণ করে। মেলায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নার্সারি মালিক এবং বন বিভাগের স্টলে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী ও ক্রেতার সমাগম ঘটে।
মেলায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং পরিবেশ বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

আয়োজকরা আরও জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ, বনভূমি সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণের আগ্রহ বৃদ্ধি করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
বক্তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব নিলে সবুজ ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয়

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মাটির নিচে লুকানো ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

error: Content is protected !!

বান্দরবানে শেষ হলো ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬

প্রকাশের সময় : ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

বান্দরবান প্রতিনিধি:

“বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বান্দরবানে ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, বনজ সম্পদ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত এ মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বান্দরবান জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস
বান্দরবান বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ সরদার, পাল্পউড প্ল্যান্টেশন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক রিটা আক্তার, সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী মো. সাইফুল ইসলাম, টংকাবতী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রাফি-উদ-দৌলা সরদার, রুমা রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ রহমান, পাইন্দু রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সোহেল হোসেন, সুয়ালক চেক স্টেশন অফিসার মো. আবুল হোসেন, পাল্পউড প্ল্যান্টেশন বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জসীম উদ্দিন, তারাছা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাসুম কবীর, রোয়াংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শফিকুল আমিনসহ বন বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, প্রতিটি চারা সঠিকভাবে পরিচর্যা করে বড় করে তোলার দায়িত্বও সবাইকে নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিপক্ব ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণ করে সেখানে নতুন গাছ রোপণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

আয়োজকরা জানান, গত ২০ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২৯ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা এই ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলায় ফলজ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা নিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক স্টল অংশগ্রহণ করে। মেলায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নার্সারি মালিক এবং বন বিভাগের স্টলে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী ও ক্রেতার সমাগম ঘটে।
মেলায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং পরিবেশ বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

আয়োজকরা আরও জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ, বনভূমি সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণের আগ্রহ বৃদ্ধি করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
বক্তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব নিলে সবুজ ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।