, শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মাটির নিচে লুকানো ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণ মাম্যাচিংকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করায় উচ্ছ্বসিত বিএনপি, বান্দরবানে আনন্দ মিছিল অতি শীঘ্রই উপজেলা-পৌরসভা-ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রার্থী ঘোষণা করবে এনসিপি: সারজিস আলম বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তে ৪৯ হাজার ৯৮২ পিস ইয়াবা উদ্ধার বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন, চেয়ারম্যান মাম্যাচিং বান্দরবানে ১ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করছে ‘সাথী’ পার্সেল ডেলিভারি থেকে বাজার-ওষুধ পৌঁছে দেওয়া—এক প্ল্যাটফর্মেই মিলবে নানা অন-ডিমান্ড সেবা ‘৬ রবিউল আউয়াল সকল ঈদের সেরা ঈদ’—বটতলীতে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বেপরোয়া চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে বান্দরবানে মানববন্ধন মোল্লার বাজারে জুয়া ও মাদকের ভয়াল বিস্তার, আতঙ্কে এলাকাবাসী

কাঠের চালানের অন্তরালে অবৈধ কাঠ পরিবহনের চেষ্টা, বান্দরবানে ৪০ ঘনফুট কাঠ আটক

  • প্রকাশের সময় : ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
  • ১৪ পড়া হয়েছে

বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবান পার্বত্য জেলার বনজ সম্পদ সংরক্ষণ ও অবৈধভাবে কাঠ পরিবহন প্রতিরোধে অভিযান জোরদার করেছে বান্দরবান সদর জোন। এরই ধারাবাহিকতায় সন্দেহজনক একটি কাঠের চালান আটক করে যাচাই-বাছাইয়ের পর ৪০ ঘনফুট অবৈধ কাঠ শনাক্ত করা হয়েছে। বন বিভাগের হিসাবে আটক কাঠের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
বান্দরবান সদর জোন সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট ২০২৬ নদীপথে পরিবহন করা একটি কাঠের চালান সন্দেহজনক মনে হলে উজানি পাড়া কাঠের ফিল্ডে কাঠ উত্তোলনের সময় সেটি আটক করা হয়। পরে চালানটির কাগজপত্র ও কাঠের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল্লাহ আল আরমান নামের এক কাঠ ব্যবসায়ীর চালানটি কাগজপত্রের অন্তরালে নদীপথে পরিবহনের চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিষয়টি বান্দরবান সদর জোনের নজরে আসার পর চালানটি আটকে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও পরিমাপের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চালানটির কাগজপত্র, কাঠের ধরন, পরিমাণ ও বৈধতার বিষয়গুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। যাচাই ও পরিমাপ শেষে চালানটিতে মোট ৪০ ঘনফুট অবৈধ কাঠ রয়েছে বলে শনাক্ত করা হয়। বন বিভাগের যাচাই অনুযায়ী, এসব কাঠের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কাগজপত্রের আড়ালে অবৈধ কাঠ পরিবহনের বিষয়টি প্রতীয়মান হওয়ায় বন বিভাগের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বান্দরবানের পাহাড়ি বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে কাঠ আহরণ ও পরিবহন দীর্ঘদিন ধরেই পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বিচারে বনজ সম্পদ আহরণের ফলে পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভূমিক্ষয়, পাহাড়ধস ও জীববৈচিত্র্য সংকটের ঝুঁকিও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে অবৈধ কাঠ পরিবহন বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বন বিভাগের সমন্বিত নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বান্দরবান সদর জোন জানিয়েছে, পার্বত্য জেলার প্রাকৃতিক বনজ সম্পদ রক্ষা, অবৈধ কাঠ আহরণ ও পাচার প্রতিরোধ এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, পাহাড়ের বনজ সম্পদ রক্ষায় অবৈধ কাঠ পরিবহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হলে বন উজাড়ের প্রবণতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয়

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মাটির নিচে লুকানো ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

error: Content is protected !!

কাঠের চালানের অন্তরালে অবৈধ কাঠ পরিবহনের চেষ্টা, বান্দরবানে ৪০ ঘনফুট কাঠ আটক

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবান পার্বত্য জেলার বনজ সম্পদ সংরক্ষণ ও অবৈধভাবে কাঠ পরিবহন প্রতিরোধে অভিযান জোরদার করেছে বান্দরবান সদর জোন। এরই ধারাবাহিকতায় সন্দেহজনক একটি কাঠের চালান আটক করে যাচাই-বাছাইয়ের পর ৪০ ঘনফুট অবৈধ কাঠ শনাক্ত করা হয়েছে। বন বিভাগের হিসাবে আটক কাঠের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
বান্দরবান সদর জোন সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট ২০২৬ নদীপথে পরিবহন করা একটি কাঠের চালান সন্দেহজনক মনে হলে উজানি পাড়া কাঠের ফিল্ডে কাঠ উত্তোলনের সময় সেটি আটক করা হয়। পরে চালানটির কাগজপত্র ও কাঠের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল্লাহ আল আরমান নামের এক কাঠ ব্যবসায়ীর চালানটি কাগজপত্রের অন্তরালে নদীপথে পরিবহনের চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিষয়টি বান্দরবান সদর জোনের নজরে আসার পর চালানটি আটকে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও পরিমাপের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চালানটির কাগজপত্র, কাঠের ধরন, পরিমাণ ও বৈধতার বিষয়গুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। যাচাই ও পরিমাপ শেষে চালানটিতে মোট ৪০ ঘনফুট অবৈধ কাঠ রয়েছে বলে শনাক্ত করা হয়। বন বিভাগের যাচাই অনুযায়ী, এসব কাঠের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কাগজপত্রের আড়ালে অবৈধ কাঠ পরিবহনের বিষয়টি প্রতীয়মান হওয়ায় বন বিভাগের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বান্দরবানের পাহাড়ি বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে কাঠ আহরণ ও পরিবহন দীর্ঘদিন ধরেই পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বিচারে বনজ সম্পদ আহরণের ফলে পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভূমিক্ষয়, পাহাড়ধস ও জীববৈচিত্র্য সংকটের ঝুঁকিও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে অবৈধ কাঠ পরিবহন বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বন বিভাগের সমন্বিত নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বান্দরবান সদর জোন জানিয়েছে, পার্বত্য জেলার প্রাকৃতিক বনজ সম্পদ রক্ষা, অবৈধ কাঠ আহরণ ও পাচার প্রতিরোধ এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, পাহাড়ের বনজ সম্পদ রক্ষায় অবৈধ কাঠ পরিবহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হলে বন উজাড়ের প্রবণতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।