, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে বান্দরবানে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন, আনসার-ভিডিপি জেলা কমান্ড্যান্ট শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বান্দরবান সেনা জোনের আর্থিক অনুদান বিতরণ বান্দরবানে সাকসেস একাডেমিক অ্যান্ড অ্যাডমিশন কেয়ারের অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ক্যান্সার আক্রান্ত আসমার পাশে মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, চিকিৎসায় নগদ অর্থ সহায়তা সূর্যমুখী শিশু কিশোর ফাউন্ডেশন এর ২৯ তম প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা উপকরণ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত। বান্দরবানে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস পালিত জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ৭ মাসের শিশু আহাদ, বাঁচাতে প্রয়োজন মানবিক সহযোগিতা। বান্দরবানের বালাঘাটার শিশু আব্দুল্লাহ আল আহাদ চট্টগ্রামের ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে; চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার  লামায় নদীর ঘাটে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালালো পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ বান্দরবানে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত, অংশ নিলেন মাধবী মার্মা এমপি

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, পচা মাংস সংরক্ষণ—বান্দরবানে হাজী নান্না বিরিয়ানিকে জরিমানা

  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
  • ৫৩ পড়া হয়েছে

বান্দরবান প্রতিনিধি।

বান্দরবানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত, পচা মাংস সংরক্ষণ এবং খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি না মানার অভিযোগে ‘হাজী নান্না বিরিয়ানি হাউজ’কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে বান্দরবান পৌরসভার মাইক্রোবাস স্টেশন সংলগ্ন হাজী নান্না বিরিয়ানি হাউজে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ লুৎফর রহমান। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা পুলিশের সহায়তায় অভিযানটি পরিচালিত হয়।

অভিযানের সূত্রপাত হয় এক ভোক্তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে এক ব্যক্তি হাজী নান্না বিরিয়ানি হাউজ থেকে এক প্যাকেট খাসির বিরিয়ানি কিনে বাসায় নিয়ে যান। খাবার খাওয়ার সময় বিরিয়ানির মাংসের মধ্যে পোকা দেখতে পান তিনি। বিষয়টি জানাতে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তি বিরিয়ানি হাউজে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তখন বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাকে কয়েক প্যাকেট বিরিয়ানি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ না করে প্রতিবাদ জানান।
পরে ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে ‘হাজী নান্না বিরিয়ানি হাউজে’ খাবার তৈরির স্থান ও সংরক্ষণাগার পরিদর্শন করে কর্মকর্তারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখতে পান। অভিযোগ অনুযায়ী, খাবার তৈরির স্থানে অপরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি পচা মাংসের মধ্যে জীবাণুবাহী পোকামাকড় পাওয়া যায়। একই ফ্রিজে পুরোনো কাঁচা মাংস সংরক্ষণ করে রাখারও প্রমাণ মেলে।
এ ছাড়া খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার, পোড়া তেল ও ঘি ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের অনেকের স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করার বিষয়টিও অভিযানে ধরা পড়ে।
কর্মকর্তারা জানান, খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও পচা বা পুরোনো খাদ্য সংরক্ষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ৫৩ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে খাবার প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা বলেন, ভোক্তাদের নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। জনস্বার্থে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত, নিম্নমানের খাদ্য ব্যবহার কিংবা খাদ্য সংরক্ষণে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয়

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে বান্দরবানে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন, আনসার-ভিডিপি জেলা কমান্ড্যান্ট

error: Content is protected !!

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, পচা মাংস সংরক্ষণ—বান্দরবানে হাজী নান্না বিরিয়ানিকে জরিমানা

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

বান্দরবান প্রতিনিধি।

বান্দরবানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত, পচা মাংস সংরক্ষণ এবং খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি না মানার অভিযোগে ‘হাজী নান্না বিরিয়ানি হাউজ’কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে বান্দরবান পৌরসভার মাইক্রোবাস স্টেশন সংলগ্ন হাজী নান্না বিরিয়ানি হাউজে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ লুৎফর রহমান। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা পুলিশের সহায়তায় অভিযানটি পরিচালিত হয়।

অভিযানের সূত্রপাত হয় এক ভোক্তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে এক ব্যক্তি হাজী নান্না বিরিয়ানি হাউজ থেকে এক প্যাকেট খাসির বিরিয়ানি কিনে বাসায় নিয়ে যান। খাবার খাওয়ার সময় বিরিয়ানির মাংসের মধ্যে পোকা দেখতে পান তিনি। বিষয়টি জানাতে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তি বিরিয়ানি হাউজে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তখন বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাকে কয়েক প্যাকেট বিরিয়ানি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ না করে প্রতিবাদ জানান।
পরে ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে ‘হাজী নান্না বিরিয়ানি হাউজে’ খাবার তৈরির স্থান ও সংরক্ষণাগার পরিদর্শন করে কর্মকর্তারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখতে পান। অভিযোগ অনুযায়ী, খাবার তৈরির স্থানে অপরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি পচা মাংসের মধ্যে জীবাণুবাহী পোকামাকড় পাওয়া যায়। একই ফ্রিজে পুরোনো কাঁচা মাংস সংরক্ষণ করে রাখারও প্রমাণ মেলে।
এ ছাড়া খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার, পোড়া তেল ও ঘি ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের অনেকের স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করার বিষয়টিও অভিযানে ধরা পড়ে।
কর্মকর্তারা জানান, খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও পচা বা পুরোনো খাদ্য সংরক্ষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ৫৩ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে খাবার প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা বলেন, ভোক্তাদের নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। জনস্বার্থে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত, নিম্নমানের খাদ্য ব্যবহার কিংবা খাদ্য সংরক্ষণে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।