, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বান্দরবান জেলা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতি, ৩০০ জনকে ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা বান্দরবানে গাউছিয়া কমিটির উদ্যোগে বন্যার্ত ৩০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ বান্দরবানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ বিশেষ অভিযানে উদ্ধার ১০ হারানো মোবাইল, প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দিল বান্দরবান সদর থানা বান্দরবানে বন্যাদুর্গত ৭৫ পরিবারের মাঝে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ বন্যাদুর্গতদের পাশে বান্দরবান বিজিবি, ১০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে প্রায় ১৫ লাখ টাকার অবৈধ কাঠ জব্দ তিন পার্বত্য জেলায় ৫৪ শতাংশ বাঙালির আয়কর মওকুফ ও বাজারফান্ড এলাকায় ব্যাংক ঋণ পুনরায় চালুর দাবি বান্দরবানে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের ঈদ উপহার বিতরণ সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি এডভোকেট মাধবী মার্মা বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সেনাবাহিনীর শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ

যুবদলের নেতা ও শ্রমিক লীগের নেতার সমন্বয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনে ভাগাভাগি

  • প্রকাশের সময় : ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৬৬ পড়া হয়েছে

Oplus_131072

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বান্দরবানে থামছেই না অবৈধ বালু উত্তোলন,প্রশাসনের অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে অভিযুক্তদের কয়েক লাখ টাকা জরিমানাসহ জেল হাজতে পাঠানোর মতো শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
তাতেও থামছেনা অবৈধ বালু উত্তোলনের রমরমা ব্যবসা।

দিনের বেলা যেমন তেমন রাত হলেই চলে বালু সিন্ডিকেট চক্রের অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম।
বান্দরবান সদর উপজেলায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের অন্ধকারে সুয়ালক খালের গনেশ পাড়ায় বালু উত্তোলন করে বাণিজ্যিকভাবে তা রেইচা লম্বা রাস্তার পাশে বিক্রি করছে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট।

জানা যায়,বালু উত্তোলন ও পরিবহন দেখাশোনা এবং সবকিছু ম্যানেজ করার দায়িত্বে রয়েছেন সুয়ালক ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক হান্নান সওদাগর ও স্থানীয় উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি কামাল ও ছাত্রদলের রাজিবসহ রয়েছে এই সিন্ডিকেটে আরো কয়েকজন। তারা ক্ষমতা অপব্যবহার করে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বালু ব্যবসায়।

অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছে এমন খবর পেলে গতকাল রাতে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়,২টি স্কাভেটর দিয়ে বালু কেটে ১০-১২ টি ট্রাক দিয়ে বালু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জিজ্ঞাসা করলে ট্রাক ড্রাইভার জানান ইউনিয়ন যুবদলের নেতা হান্নান, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি কামাল ও ছাত্রদলের রাজিব এই বালু উত্তোলনের জন্য এখানে এনেছেন। হান্নান ও কামাল প্রতিবেদককে ম্যানেজ করবে বলে জায়গা থেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু প্রতিবেদক প্রশাসনের সহায়তায় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার কিছুক্ষণ পরেই আবার অবৈধ বালু উত্তোলন পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেন এই বালু চক্র।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গভীর রাতে ট্রাক দিয়ে বালু পরিবহন করা হচ্ছে,এতে আমাদের ছেলে মেয়েরা ঘুমাতে পারে না এবং বঙ্গ পাড়া হতে গনেশ পাড়া রাস্তাটি নষ্ট হচ্ছে।এই বালু উত্তোলনের ফলে খালের তলদেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ভাঙছে আশপাশের কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়ক। এভাবে চলতে থাকলে দিন দিন সুয়ালক খাল আর খাল থাকবে না বিলাপ্ত হয়ে যাবে।

আরেক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন,“প্রভাবশালী কিছু লোক রাতের বেলা স্কেভেটর দিয়ে বালু তোলে। প্রশাসন জানে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয় না।”

স্থানীয়দের দাবি,স্থানীয়রা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত নজরদারি চেয়েছেন। তারা বলছেন, এইভাবে চলতে থাকলে সুয়ালক ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি খাল আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের কারণে নদী ও খালের তলদেশ নষ্ট হয়ে যায়, জলধারা পরিবর্তিত হয় এবং পাড় ভাঙনের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। এতে কৃষি ও জীববৈচিত্র্য দুটোই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

জনপ্রিয়

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বান্দরবান জেলা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতি, ৩০০ জনকে ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা

error: Content is protected !!

যুবদলের নেতা ও শ্রমিক লীগের নেতার সমন্বয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনে ভাগাভাগি

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বান্দরবানে থামছেই না অবৈধ বালু উত্তোলন,প্রশাসনের অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে অভিযুক্তদের কয়েক লাখ টাকা জরিমানাসহ জেল হাজতে পাঠানোর মতো শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
তাতেও থামছেনা অবৈধ বালু উত্তোলনের রমরমা ব্যবসা।

দিনের বেলা যেমন তেমন রাত হলেই চলে বালু সিন্ডিকেট চক্রের অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম।
বান্দরবান সদর উপজেলায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের অন্ধকারে সুয়ালক খালের গনেশ পাড়ায় বালু উত্তোলন করে বাণিজ্যিকভাবে তা রেইচা লম্বা রাস্তার পাশে বিক্রি করছে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট।

জানা যায়,বালু উত্তোলন ও পরিবহন দেখাশোনা এবং সবকিছু ম্যানেজ করার দায়িত্বে রয়েছেন সুয়ালক ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক হান্নান সওদাগর ও স্থানীয় উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি কামাল ও ছাত্রদলের রাজিবসহ রয়েছে এই সিন্ডিকেটে আরো কয়েকজন। তারা ক্ষমতা অপব্যবহার করে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বালু ব্যবসায়।

অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছে এমন খবর পেলে গতকাল রাতে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়,২টি স্কাভেটর দিয়ে বালু কেটে ১০-১২ টি ট্রাক দিয়ে বালু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জিজ্ঞাসা করলে ট্রাক ড্রাইভার জানান ইউনিয়ন যুবদলের নেতা হান্নান, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি কামাল ও ছাত্রদলের রাজিব এই বালু উত্তোলনের জন্য এখানে এনেছেন। হান্নান ও কামাল প্রতিবেদককে ম্যানেজ করবে বলে জায়গা থেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু প্রতিবেদক প্রশাসনের সহায়তায় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার কিছুক্ষণ পরেই আবার অবৈধ বালু উত্তোলন পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেন এই বালু চক্র।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গভীর রাতে ট্রাক দিয়ে বালু পরিবহন করা হচ্ছে,এতে আমাদের ছেলে মেয়েরা ঘুমাতে পারে না এবং বঙ্গ পাড়া হতে গনেশ পাড়া রাস্তাটি নষ্ট হচ্ছে।এই বালু উত্তোলনের ফলে খালের তলদেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ভাঙছে আশপাশের কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়ক। এভাবে চলতে থাকলে দিন দিন সুয়ালক খাল আর খাল থাকবে না বিলাপ্ত হয়ে যাবে।

আরেক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন,“প্রভাবশালী কিছু লোক রাতের বেলা স্কেভেটর দিয়ে বালু তোলে। প্রশাসন জানে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয় না।”

স্থানীয়দের দাবি,স্থানীয়রা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত নজরদারি চেয়েছেন। তারা বলছেন, এইভাবে চলতে থাকলে সুয়ালক ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি খাল আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের কারণে নদী ও খালের তলদেশ নষ্ট হয়ে যায়, জলধারা পরিবর্তিত হয় এবং পাড় ভাঙনের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। এতে কৃষি ও জীববৈচিত্র্য দুটোই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।