, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার গাছবুনিয়া থেকে অস্ত্র সহ ২জন আটক আলীকদম সেনা জোনের সফল অভিযানে মালিকবিহীন বিপুল পরিমাণ সেগুন কাঠ উদ্ধার রামুতে সেনা পুলিশের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গূলিসহ এক নারী আটক নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মিয়ানমারের নাগরিক আটক বান্দরবানে রান্নার গ্যাসের সংকট: অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান বান্দরবান চিম্বুক রেঞ্জ, গরীব অসহায় শীতার্থ ম্রো জনগোষ্ঠীর মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ বাইশারীতে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের উদ্যোগে বই, শিক্ষা সামগ্রী ও শীতবস্ত্র বিতরণ বান্দরবানে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট, বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ বান্দরবান সংসদীয় ৩০০নং আসনে ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল লামায় অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশের অভিযান

বান্দরবানে অবৈধ ভাবে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : ০৬:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ৭৫ পড়া হয়েছে

Oplus_131072

নিউজ ডেস্ক :

বান্দরবান সরকারি সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গা থেকে রাতের অন্ধকারে গাছ কাটার অভিযোগে উঠেছে বাচ্চু নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ৫০ বছর পুরোনো গাছ গুলো কাটার ফলে বান্দরবান-কেরানিহাট সড়কের ওই অংশে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। শুক্রবার  (৭ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান সদরের মেঘলা মৃত্তিকা অফিস সংলগ্ন তালুকদার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আশরাফ ইসলাম বাচ্চু বান্দরবান বাজার এলাকার বাসিন্দা বলে জানা যায়।

স্থানীয়রা জানায়, বান্দরবান সদরের মেঘলা মৃত্তিকা অফিস সংলগ্ন তালুকদার পাড়া এলাকায় বান্দরবান-কেরানিহাট মুল সড়কের পাশে  সড়ক ও জনপদ বিভাগের সরকাতি জায়গায় অন্তত ৫০ বছরের পুরানো বেশ কিছু মেহগনি,গামারি ও কড়ই এর মত বড় বড় মূল্যবান গাছ ছিল। যা সড়কটি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল।সে গাছ গুলো থেকে অন্তত ৭ টির অধিক বড় বড় গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এছাড়াও আরো কয়েকটি অর্ধেকের বেশি কাটা হয়েছে। এছাড়া গাছ কাটার আগে বনবিভাগের অনুমতিও নেয় নি বাচ্চু নামে ঐ ব্যক্তি। যা সরকারি গাছ লুটের সামিলের পাশাপাশি সড়কটিকেও হুমকিতে ফেলছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের বাঁধার মুখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত  আশরাফুল্লাহ  বাচ্চু ও গাছ কাটায় নিয়োজিত নিয়োজিত শ্রমিকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পু্লিশ প্রশাসন ও বন বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে আসে এবং তারা স্থানীয়দের সাথে কথা বলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করেন।

তালুকদার পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা ইজ্জত আলী বলেন, রাতের আধারে জায়গা দখল করার উদ্দেশ্যে বাচ্চু নামে এক জামাত নেতা সড়ক বিভাগের জায়গা থেকে ৫০ বছরের অধিক সময়ে বড় বড় গাছ ফেলেছে। পরে আমরা স্থানীয়রা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে আসলে তার নিয়োজিত লেবারদেরকে নিয়ে সে পালিয়ে যায়। আমরা চাই সরকারি জায়গা থেকে যেন কেউ গাছ কাটতে পারে এবং বাচ্চুর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক, যাতে করে ভবিষ্যতে যেন আর এধরনের কাজ না করতে পারে।

গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে আশরাফ উল্লাহ বাচ্চু বলেন, যে গাছ গুলো কাটা হয়েছে সে গুলো তার নিজের নামীয় জায়গা থেকে কাটা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সড়ক বিভাগের সীমানা পিলার গুলো সেনাবাহিনী দিয়েছে। তবে গাছ কাটার আগে বনবিভাগের পূর্বানুমতি নেয়া হয় নি।

বান্দরবান সদর থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন বলেন, সরকারি জায়গা থেকে গাছ কাটার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন  করেছি। বনবিভাগ, সড়ক বিভাগের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সড়ক ও জনপথ বিভা‌গের সহকারী প্রকৌশলী অং শৈ প্রু মারমা ব‌লেন, যে গাছ গুলো কাটা হয়েছে সেগুলো বান্দরবান সড়ক ও জনপদ বিভাগের সীমানার অভ্যন্তরীণ  জায়গার  গাছ। তাই এগু‌লো আইনী প্রক্রিয়ায় বন বিভাগ, পু‌লিশ এবং আমা‌দের নির্বাহী প্রকৌশলীর অনু‌মোদন সা‌পে‌ক্ষে আইনি ব্যবস্থা  গ্রহন করা হবে।

বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “বিষয়টি তিনি জেনেছি। তদন্ত সা‌পে‌ক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হ‌বে বলে জানান তিনি।

জনপ্রিয়

বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার গাছবুনিয়া থেকে অস্ত্র সহ ২জন আটক

error: Content is protected !!

বান্দরবানে অবৈধ ভাবে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৬:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

নিউজ ডেস্ক :

বান্দরবান সরকারি সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গা থেকে রাতের অন্ধকারে গাছ কাটার অভিযোগে উঠেছে বাচ্চু নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ৫০ বছর পুরোনো গাছ গুলো কাটার ফলে বান্দরবান-কেরানিহাট সড়কের ওই অংশে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। শুক্রবার  (৭ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান সদরের মেঘলা মৃত্তিকা অফিস সংলগ্ন তালুকদার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আশরাফ ইসলাম বাচ্চু বান্দরবান বাজার এলাকার বাসিন্দা বলে জানা যায়।

স্থানীয়রা জানায়, বান্দরবান সদরের মেঘলা মৃত্তিকা অফিস সংলগ্ন তালুকদার পাড়া এলাকায় বান্দরবান-কেরানিহাট মুল সড়কের পাশে  সড়ক ও জনপদ বিভাগের সরকাতি জায়গায় অন্তত ৫০ বছরের পুরানো বেশ কিছু মেহগনি,গামারি ও কড়ই এর মত বড় বড় মূল্যবান গাছ ছিল। যা সড়কটি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল।সে গাছ গুলো থেকে অন্তত ৭ টির অধিক বড় বড় গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এছাড়াও আরো কয়েকটি অর্ধেকের বেশি কাটা হয়েছে। এছাড়া গাছ কাটার আগে বনবিভাগের অনুমতিও নেয় নি বাচ্চু নামে ঐ ব্যক্তি। যা সরকারি গাছ লুটের সামিলের পাশাপাশি সড়কটিকেও হুমকিতে ফেলছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের বাঁধার মুখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত  আশরাফুল্লাহ  বাচ্চু ও গাছ কাটায় নিয়োজিত নিয়োজিত শ্রমিকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পু্লিশ প্রশাসন ও বন বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে আসে এবং তারা স্থানীয়দের সাথে কথা বলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করেন।

তালুকদার পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা ইজ্জত আলী বলেন, রাতের আধারে জায়গা দখল করার উদ্দেশ্যে বাচ্চু নামে এক জামাত নেতা সড়ক বিভাগের জায়গা থেকে ৫০ বছরের অধিক সময়ে বড় বড় গাছ ফেলেছে। পরে আমরা স্থানীয়রা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে আসলে তার নিয়োজিত লেবারদেরকে নিয়ে সে পালিয়ে যায়। আমরা চাই সরকারি জায়গা থেকে যেন কেউ গাছ কাটতে পারে এবং বাচ্চুর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক, যাতে করে ভবিষ্যতে যেন আর এধরনের কাজ না করতে পারে।

গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে আশরাফ উল্লাহ বাচ্চু বলেন, যে গাছ গুলো কাটা হয়েছে সে গুলো তার নিজের নামীয় জায়গা থেকে কাটা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সড়ক বিভাগের সীমানা পিলার গুলো সেনাবাহিনী দিয়েছে। তবে গাছ কাটার আগে বনবিভাগের পূর্বানুমতি নেয়া হয় নি।

বান্দরবান সদর থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন বলেন, সরকারি জায়গা থেকে গাছ কাটার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন  করেছি। বনবিভাগ, সড়ক বিভাগের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সড়ক ও জনপথ বিভা‌গের সহকারী প্রকৌশলী অং শৈ প্রু মারমা ব‌লেন, যে গাছ গুলো কাটা হয়েছে সেগুলো বান্দরবান সড়ক ও জনপদ বিভাগের সীমানার অভ্যন্তরীণ  জায়গার  গাছ। তাই এগু‌লো আইনী প্রক্রিয়ায় বন বিভাগ, পু‌লিশ এবং আমা‌দের নির্বাহী প্রকৌশলীর অনু‌মোদন সা‌পে‌ক্ষে আইনি ব্যবস্থা  গ্রহন করা হবে।

বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “বিষয়টি তিনি জেনেছি। তদন্ত সা‌পে‌ক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হ‌বে বলে জানান তিনি।