, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বান্দরবান জেলা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতি, ৩০০ জনকে ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা বান্দরবানে গাউছিয়া কমিটির উদ্যোগে বন্যার্ত ৩০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ বান্দরবানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ বিশেষ অভিযানে উদ্ধার ১০ হারানো মোবাইল, প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দিল বান্দরবান সদর থানা বান্দরবানে বন্যাদুর্গত ৭৫ পরিবারের মাঝে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ বন্যাদুর্গতদের পাশে বান্দরবান বিজিবি, ১০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে প্রায় ১৫ লাখ টাকার অবৈধ কাঠ জব্দ তিন পার্বত্য জেলায় ৫৪ শতাংশ বাঙালির আয়কর মওকুফ ও বাজারফান্ড এলাকায় ব্যাংক ঋণ পুনরায় চালুর দাবি বান্দরবানে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের ঈদ উপহার বিতরণ সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি এডভোকেট মাধবী মার্মা বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সেনাবাহিনীর শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ

বান্দরবানে অবৈধ ভাবে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : ০৬:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৫৫ পড়া হয়েছে

Oplus_131072

নিউজ ডেস্ক :

বান্দরবান সরকারি সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গা থেকে রাতের অন্ধকারে গাছ কাটার অভিযোগে উঠেছে বাচ্চু নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ৫০ বছর পুরোনো গাছ গুলো কাটার ফলে বান্দরবান-কেরানিহাট সড়কের ওই অংশে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। শুক্রবার  (৭ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান সদরের মেঘলা মৃত্তিকা অফিস সংলগ্ন তালুকদার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আশরাফ ইসলাম বাচ্চু বান্দরবান বাজার এলাকার বাসিন্দা বলে জানা যায়।

স্থানীয়রা জানায়, বান্দরবান সদরের মেঘলা মৃত্তিকা অফিস সংলগ্ন তালুকদার পাড়া এলাকায় বান্দরবান-কেরানিহাট মুল সড়কের পাশে  সড়ক ও জনপদ বিভাগের সরকাতি জায়গায় অন্তত ৫০ বছরের পুরানো বেশ কিছু মেহগনি,গামারি ও কড়ই এর মত বড় বড় মূল্যবান গাছ ছিল। যা সড়কটি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল।সে গাছ গুলো থেকে অন্তত ৭ টির অধিক বড় বড় গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এছাড়াও আরো কয়েকটি অর্ধেকের বেশি কাটা হয়েছে। এছাড়া গাছ কাটার আগে বনবিভাগের অনুমতিও নেয় নি বাচ্চু নামে ঐ ব্যক্তি। যা সরকারি গাছ লুটের সামিলের পাশাপাশি সড়কটিকেও হুমকিতে ফেলছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের বাঁধার মুখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত  আশরাফুল্লাহ  বাচ্চু ও গাছ কাটায় নিয়োজিত নিয়োজিত শ্রমিকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পু্লিশ প্রশাসন ও বন বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে আসে এবং তারা স্থানীয়দের সাথে কথা বলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করেন।

তালুকদার পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা ইজ্জত আলী বলেন, রাতের আধারে জায়গা দখল করার উদ্দেশ্যে বাচ্চু নামে এক জামাত নেতা সড়ক বিভাগের জায়গা থেকে ৫০ বছরের অধিক সময়ে বড় বড় গাছ ফেলেছে। পরে আমরা স্থানীয়রা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে আসলে তার নিয়োজিত লেবারদেরকে নিয়ে সে পালিয়ে যায়। আমরা চাই সরকারি জায়গা থেকে যেন কেউ গাছ কাটতে পারে এবং বাচ্চুর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক, যাতে করে ভবিষ্যতে যেন আর এধরনের কাজ না করতে পারে।

গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে আশরাফ উল্লাহ বাচ্চু বলেন, যে গাছ গুলো কাটা হয়েছে সে গুলো তার নিজের নামীয় জায়গা থেকে কাটা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সড়ক বিভাগের সীমানা পিলার গুলো সেনাবাহিনী দিয়েছে। তবে গাছ কাটার আগে বনবিভাগের পূর্বানুমতি নেয়া হয় নি।

বান্দরবান সদর থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন বলেন, সরকারি জায়গা থেকে গাছ কাটার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন  করেছি। বনবিভাগ, সড়ক বিভাগের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সড়ক ও জনপথ বিভা‌গের সহকারী প্রকৌশলী অং শৈ প্রু মারমা ব‌লেন, যে গাছ গুলো কাটা হয়েছে সেগুলো বান্দরবান সড়ক ও জনপদ বিভাগের সীমানার অভ্যন্তরীণ  জায়গার  গাছ। তাই এগু‌লো আইনী প্রক্রিয়ায় বন বিভাগ, পু‌লিশ এবং আমা‌দের নির্বাহী প্রকৌশলীর অনু‌মোদন সা‌পে‌ক্ষে আইনি ব্যবস্থা  গ্রহন করা হবে।

বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “বিষয়টি তিনি জেনেছি। তদন্ত সা‌পে‌ক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হ‌বে বলে জানান তিনি।

জনপ্রিয়

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বান্দরবান জেলা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতি, ৩০০ জনকে ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা

error: Content is protected !!

বান্দরবানে অবৈধ ভাবে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৬:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

নিউজ ডেস্ক :

বান্দরবান সরকারি সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গা থেকে রাতের অন্ধকারে গাছ কাটার অভিযোগে উঠেছে বাচ্চু নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ৫০ বছর পুরোনো গাছ গুলো কাটার ফলে বান্দরবান-কেরানিহাট সড়কের ওই অংশে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। শুক্রবার  (৭ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান সদরের মেঘলা মৃত্তিকা অফিস সংলগ্ন তালুকদার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আশরাফ ইসলাম বাচ্চু বান্দরবান বাজার এলাকার বাসিন্দা বলে জানা যায়।

স্থানীয়রা জানায়, বান্দরবান সদরের মেঘলা মৃত্তিকা অফিস সংলগ্ন তালুকদার পাড়া এলাকায় বান্দরবান-কেরানিহাট মুল সড়কের পাশে  সড়ক ও জনপদ বিভাগের সরকাতি জায়গায় অন্তত ৫০ বছরের পুরানো বেশ কিছু মেহগনি,গামারি ও কড়ই এর মত বড় বড় মূল্যবান গাছ ছিল। যা সড়কটি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল।সে গাছ গুলো থেকে অন্তত ৭ টির অধিক বড় বড় গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এছাড়াও আরো কয়েকটি অর্ধেকের বেশি কাটা হয়েছে। এছাড়া গাছ কাটার আগে বনবিভাগের অনুমতিও নেয় নি বাচ্চু নামে ঐ ব্যক্তি। যা সরকারি গাছ লুটের সামিলের পাশাপাশি সড়কটিকেও হুমকিতে ফেলছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের বাঁধার মুখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত  আশরাফুল্লাহ  বাচ্চু ও গাছ কাটায় নিয়োজিত নিয়োজিত শ্রমিকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পু্লিশ প্রশাসন ও বন বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে আসে এবং তারা স্থানীয়দের সাথে কথা বলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করেন।

তালুকদার পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা ইজ্জত আলী বলেন, রাতের আধারে জায়গা দখল করার উদ্দেশ্যে বাচ্চু নামে এক জামাত নেতা সড়ক বিভাগের জায়গা থেকে ৫০ বছরের অধিক সময়ে বড় বড় গাছ ফেলেছে। পরে আমরা স্থানীয়রা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে আসলে তার নিয়োজিত লেবারদেরকে নিয়ে সে পালিয়ে যায়। আমরা চাই সরকারি জায়গা থেকে যেন কেউ গাছ কাটতে পারে এবং বাচ্চুর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক, যাতে করে ভবিষ্যতে যেন আর এধরনের কাজ না করতে পারে।

গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে আশরাফ উল্লাহ বাচ্চু বলেন, যে গাছ গুলো কাটা হয়েছে সে গুলো তার নিজের নামীয় জায়গা থেকে কাটা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সড়ক বিভাগের সীমানা পিলার গুলো সেনাবাহিনী দিয়েছে। তবে গাছ কাটার আগে বনবিভাগের পূর্বানুমতি নেয়া হয় নি।

বান্দরবান সদর থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন বলেন, সরকারি জায়গা থেকে গাছ কাটার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন  করেছি। বনবিভাগ, সড়ক বিভাগের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সড়ক ও জনপথ বিভা‌গের সহকারী প্রকৌশলী অং শৈ প্রু মারমা ব‌লেন, যে গাছ গুলো কাটা হয়েছে সেগুলো বান্দরবান সড়ক ও জনপদ বিভাগের সীমানার অভ্যন্তরীণ  জায়গার  গাছ। তাই এগু‌লো আইনী প্রক্রিয়ায় বন বিভাগ, পু‌লিশ এবং আমা‌দের নির্বাহী প্রকৌশলীর অনু‌মোদন সা‌পে‌ক্ষে আইনি ব্যবস্থা  গ্রহন করা হবে।

বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “বিষয়টি তিনি জেনেছি। তদন্ত সা‌পে‌ক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হ‌বে বলে জানান তিনি।