, শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মাটির নিচে লুকানো ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণ মাম্যাচিংকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করায় উচ্ছ্বসিত বিএনপি, বান্দরবানে আনন্দ মিছিল অতি শীঘ্রই উপজেলা-পৌরসভা-ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রার্থী ঘোষণা করবে এনসিপি: সারজিস আলম বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তে ৪৯ হাজার ৯৮২ পিস ইয়াবা উদ্ধার বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন, চেয়ারম্যান মাম্যাচিং বান্দরবানে ১ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করছে ‘সাথী’ পার্সেল ডেলিভারি থেকে বাজার-ওষুধ পৌঁছে দেওয়া—এক প্ল্যাটফর্মেই মিলবে নানা অন-ডিমান্ড সেবা ‘৬ রবিউল আউয়াল সকল ঈদের সেরা ঈদ’—বটতলীতে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বেপরোয়া চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে বান্দরবানে মানববন্ধন মোল্লার বাজারে জুয়া ও মাদকের ভয়াল বিস্তার, আতঙ্কে এলাকাবাসী

রেকর্ড বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের ৫১ সড়ক,দ্রুত সংস্কারের দাবি

  • প্রকাশের সময় : ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ২২ পড়া হয়েছে

বান্দরবান প্রতিনিধি:

জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে টানা রেকর্ডভাঙা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড (পাবউবো) নির্মিত বিভিন্ন সড়ক। অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে বোর্ডের নির্মিত ৫১টি সড়কের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়ক দ্রুত মেরামত ও সংস্কারে প্রায় ২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান ইউনিট অফিস।

গত ৫ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা অতিভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রায় সবকটি উপজেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস, আকস্মিক বন্যা ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুর্গম পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১০ জুলাই—মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে বান্দরবানে ৮৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে একটানা ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সর্বোচ্চ রেকর্ড। এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢল সৃষ্টি হয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান ইউনিট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বোর্ডের পূর্বে নির্মিত ৫১টি সড়ক, যার মোট দৈর্ঘ্য ৩০৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার, বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির মধ্যে রয়েছে কার্পেটিং সড়ক ধসে যাওয়া, আরসিসি সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়া, কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, রিটেইনিং ওয়াল ধসে পড়া, ড্রেন নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং অসংখ্য স্থানে ভূমিধসের ঘটনা।

এসব ক্ষয়ক্ষতির কারণে অনেক এলাকায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের একাংশ ধসে যাওয়ায় যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। দুর্গম অঞ্চলের বাসিন্দাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা-নেওয়াও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে এসব সড়কের ক্ষতি দ্রুত মেরামত না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে। এতে দুর্গম এলাকার সঙ্গে জেলা শহরের যোগাযোগ আবারও বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান ইউনিট অফিস জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত ও সংস্কারের জন্য প্রায় ২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত অর্থ বরাদ্দ ও সংস্কারকাজ শুরু করা না হলে বর্ষা মৌসুমে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা ও যোগাযোগের প্রধান ভরসা এসব সড়ক। তাই জনদুর্ভোগ কমাতে এবং নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করা সময়ের দাবি।

জনপ্রিয়

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মাটির নিচে লুকানো ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

error: Content is protected !!

রেকর্ড বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের ৫১ সড়ক,দ্রুত সংস্কারের দাবি

প্রকাশের সময় : ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বান্দরবান প্রতিনিধি:

জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে টানা রেকর্ডভাঙা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড (পাবউবো) নির্মিত বিভিন্ন সড়ক। অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে বোর্ডের নির্মিত ৫১টি সড়কের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়ক দ্রুত মেরামত ও সংস্কারে প্রায় ২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান ইউনিট অফিস।

গত ৫ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা অতিভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রায় সবকটি উপজেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস, আকস্মিক বন্যা ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুর্গম পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১০ জুলাই—মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে বান্দরবানে ৮৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে একটানা ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সর্বোচ্চ রেকর্ড। এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢল সৃষ্টি হয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান ইউনিট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বোর্ডের পূর্বে নির্মিত ৫১টি সড়ক, যার মোট দৈর্ঘ্য ৩০৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার, বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির মধ্যে রয়েছে কার্পেটিং সড়ক ধসে যাওয়া, আরসিসি সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়া, কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, রিটেইনিং ওয়াল ধসে পড়া, ড্রেন নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং অসংখ্য স্থানে ভূমিধসের ঘটনা।

এসব ক্ষয়ক্ষতির কারণে অনেক এলাকায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের একাংশ ধসে যাওয়ায় যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। দুর্গম অঞ্চলের বাসিন্দাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা-নেওয়াও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে এসব সড়কের ক্ষতি দ্রুত মেরামত না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে। এতে দুর্গম এলাকার সঙ্গে জেলা শহরের যোগাযোগ আবারও বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান ইউনিট অফিস জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত ও সংস্কারের জন্য প্রায় ২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত অর্থ বরাদ্দ ও সংস্কারকাজ শুরু করা না হলে বর্ষা মৌসুমে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা ও যোগাযোগের প্রধান ভরসা এসব সড়ক। তাই জনদুর্ভোগ কমাতে এবং নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করা সময়ের দাবি।